ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কী এবং কারা হচ্ছেন এবার?

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১৬:১০:০৩

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কী এবং কারা হচ্ছেন এবার?

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। ইতোমধ্যে নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চূড়ান্ত তালিকায় থাকা কয়েকজন টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন।

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কাকে বলে?

টেকনোক্র্যাট বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য না হলেও বিশেষ পেশাগত, প্রযুক্তিগত বা একাডেমিক দক্ষতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা বা নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখেন।

অর্থাৎ, যারা নির্বাচনে জয়ী হননি কিন্তু বিশেষ যোগ্যতার কারণে মন্ত্রিসভায় স্থান পান, তারাই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী।

বাংলাদেশের সংবিধান–এর ৫৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার অনধিক এক-দশমাংশ সদস্য সংসদ সদস্য নন এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে পারেন। তবে তাদের সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।

সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার নয়-দশমাংশ সদস্য নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে রাখতে হবে। বাকি এক-দশমাংশ প্রধানমন্ত্রী চাইলে টেকনোক্র্যাট হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন। সাধারণত বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বা বিশেষ অবদানের ভিত্তিতেই এ নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের আগে বা সংসদ ভেঙে যাওয়ার ৯০ দিন আগে এসব টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়।

নতুন মন্ত্রিসভায় কারা হচ্ছেন টেকনোক্র্যাট?

৪৯ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভায় থাকছেন ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে টেকনোক্র্যাট কোটায় দুজন পূর্ণমন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী রাখা হয়েছে।

পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন হাজি আমিনুর রশিদ ইয়াছিন ও ড. খলিলুর রহমান। প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন আমিনুল হক।

হাজি আমিনুর রশিদ ইয়াছিন

হাজি আমিনুর রশিদ ইয়াছিন কুমিল্লা–৬ (সদর) আসনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে দলীয় মনোনয়ন পান চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও গত ১৯ জানুয়ারি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

তিনি দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা–৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে কুমিল্লা–৬ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।

ড. খলিলুর রহমান

ড. খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তিনি ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারে যোগ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয় এবং হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও কূটনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবনে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫ সালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বদলি হন। ১৯৯১ সালে জেনেভায় জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনে বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আমিনুল হক

সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হক ঢাকা–১৬ আসন থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের কাছে পরাজিত হন।

নির্বাচনে পরাজিত হয়ে বা টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হওয়ার নজির আগে খুব কম রয়েছে। স্বাধীনতার পর সাবেক তারকা ফুটবলারদের মধ্যে মেজর হাফিজ প্রথম মন্ত্রীত্ব পান। পরে সাবেক জাতীয় ফুটবলার আরিফ খান জয় ক্রীড়া উপমন্ত্রী হন। আমিনুল হক তৃতীয় সাবেক জাতীয় ফুটবলার হিসেবে মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত