ঢাকা, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

জুলাই-পরবর্তী শেয়ারবাজার: সংস্কারের চ্যালেঞ্জ ও আস্থার সন্ধানে বিএসইসি

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ২৩:১৭:৪১

জুলাই-পরবর্তী শেয়ারবাজার: সংস্কারের চ্যালেঞ্জ ও আস্থার সন্ধানে বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার এক চরম অস্থিরতা ও রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অভ্যুত্থানের আগে ডিএসইর প্রধান সূচক ৫ হাজার ২২৩ পয়েন্টে থাকলেও দৈনিক লেনদেন ২০৮ কোটি টাকায় নেমে আসায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। এই সংকটময় মুহূর্তে বাজার সংস্কার ও শৃঙ্খলা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ শুরু করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিএসইসি অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে। বিগত সরকারের আমলে ১২টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ৫ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে বেক্সিমকোসহ বেশ কিছু কোম্পানিকে জরিমানা করা হলেও এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং মতিঝিলে চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভও দেখা দেয়।

বাজারের কাঠামোগত ভিত্তি মজবুত করতে বিএসইসি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন সংশোধন করেছে। পাবলিক ইস্যু রুলস সংশোধনের মাধ্যমে আইপিও প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করা হয়েছে, মার্জিন রুলস পরিবর্তনের মাধ্যমে বিনিয়োগ ঝুঁকি কমানো হয়েছে এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ড রুলস কঠোর করে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী ফান্ড সংগ্রহের ১৮টি আবেদন বাতিল বা প্রত্যাহার করায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়েছে।

বাজার স্থিতিশীল করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ৫টি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার বাজারে ছেড়ে তারল্য বাড়ানো, বড় বেসরকারি কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে উৎসাহিত করা, বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ৩ মাসের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করা এবং ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বন্ড বা ইক্যুইটির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করা। এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি বাজার গতিশীল করতে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিলের প্রস্তাব করেছে।

কমিটির প্রতিবেদনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করা এবং ১ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত ডিভিডেন্ড সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স কমিয়ে ৫ শতাংশ করা এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ডের কর অব্যাহতি সুবিধা বাড়ানোর সুপারিশও এসেছে। নির্বাচনের পর বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার আভাস পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির জন্য নীতিমালার ধারাবাহিকতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত