ঢাকা, বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২

জুলাই সনদ জনগণ-রাজনীতির ঐতিহাসিক চুক্তি: আলী রিয়াজ

২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ১৫:১৩:২৪

জুলাই সনদ জনগণ-রাজনীতির ঐতিহাসিক চুক্তি: আলী রিয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই জাতীয় সনদ কোনো পক্ষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া দলিল নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, এই সনদ বাস্তবায়নের দায় যেমন রাষ্ট্রের, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোরও।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহিংসতা প্রতিরোধ : মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট এ আলোচনার আয়োজন করে।

আলী রীয়াজ বলেন, দীর্ঘ নয় মাস ধরে টানা আলোচনার মাধ্যমে ৩০টি রাজনৈতিক দল জুলাই জাতীয় সনদের এজেন্ডাগুলো প্রণয়ন করেছে। ফলে এটি কারও ইচ্ছামতো আরোপ করা কোনো বিষয় নয়। বরং অগণিত শহীদের আত্মত্যাগ ও স্বপ্নের বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে এই সনদ কার্যকর করা জরুরি।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান স্পষ্ট রায় দিয়েছে—বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা অন্যায় করেছে, তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে আর যেন কোনো ফ্যাসিবাদ বা জমিদারিতান্ত্রিক শাসন ফিরে আসতে না পারে, সে জন্য ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আলী রীয়াজ আরও বলেন, মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান দাবি। আর এই অধিকার কার্যকর করতে নির্বাচন ছাড়া বিকল্প নেই। ন্যায়বিচার, সংস্কার ও একটি নতুন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে নির্বাচন, গণভোট এবং সংবিধান সংস্কারের সিদ্ধান্ত জনগণের হাতেই থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশ ফ্যাসিবাদের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়েছে। এখন আমরা গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছি। এই গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে প্রত্যেকে নিজেকে রাষ্ট্রের মালিক মনে করতে পারে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের প্রসঙ্গ টেনে আলী রীয়াজ বলেন, সেদিন প্রত্যেক নাগরিককে স্বাধীন ও নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ, মানবিক, সাম্যভিত্তিক ও সুবিচারপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির। আলোচনায় বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউটের ডিস্টিংগুইশড ফেলো সাবেক রাষ্ট্রদূত ফারুক সোবহান। সার্ভে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন চৌধুরী সামিউল হক। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা, সংস্থা ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত