ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
কর-জিডিপি বাড়াতে রূপরেখা পেল প্রধান উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের রাজস্ব কাঠামোকে যুগোপযোগী করা এবং কর আদায়ের সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের সংস্কারের প্রস্তাব এসেছে। কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো ও ব্যবসা-বান্ধব আধুনিক করব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বিদ্যমান জটিল, পরোক্ষ করনির্ভর কাঠামো থেকে সরে এসে প্রত্যক্ষ করের ওপর গুরুত্ব আরোপের মাধ্যমে কর ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে মোট ৫৫টি নির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের জাতীয় টাস্কফোর্স প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমান প্রায় ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। একই সঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই অনুপাত ১৫ থেকে ২০ শতাংশে নেওয়ার একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের অনুপাত বর্তমান ৩০:৭০ থেকে পরিবর্তন করে ৫০:৫০ করার সুপারিশ রয়েছে।
“ট্যাক্স পলিসি ফর ডেভেলপমেন্ট: এ রিফর্ম এজেন্ডা ফর রিস্ট্রাকচারিং দ্য ট্যাক্স সিস্টেম” শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের করব্যবস্থা অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। খণ্ডিত বা সাময়িক সংস্কারের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন অপরিহার্য।
টাস্কফোর্স কর ব্যবস্থায় ডিজিটাল অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ঝুঁকি বিশ্লেষণ, সহজ কর কাঠামো এবং ঝুঁকিভিত্তিক অডিট ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যনির্ভর কর কাঠামো থেকে সরে এসে দেশীয় করব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কৌশল প্রস্তাব করা হয়েছে। শুল্ক কাঠামো আধুনিকায়ন এবং বহুস্তরবিশিষ্ট ভ্যাট হার বাতিল করে একক ভ্যাট হারের দিকেও অগ্রসর হওয়ার সুপারিশ করা হয়।
বন্দরে পণ্য খালাসে জটিলতা কমাতে আলাদা ভ্যালুয়েশন ডেটাবেইসের পরিবর্তে ‘পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট’ চালুর পরামর্শও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে সময় সীমিত। তবু আমরা এই নীতিগুলোর বাস্তবায়নের যাত্রা শুরু করতে চাই। এসব সংস্কার কার্যকর হলে রাজস্ব আদায় আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে এবং অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে।’
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই প্রতিবেদন ভবিষ্যৎ কর সংস্কারের একটি কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি সুশাসনও জোরদার করা সম্ভব হবে।
টাস্কফোর্স প্রধান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, গত এক দশকে কর আদায়ের প্রক্রিয়া অতিমাত্রায় জটিল হয়ে উঠেছে। দ্রুত ও সাহসী সংস্কার করা গেলে এর ইতিবাচক প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়বে।
প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ জাতীয় টাস্কফোর্সের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ৬ অক্টোবর এই টাস্কফোর্স গঠন করা হয় এবং ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ সেপ্টেম্বর)
- একাদশে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে কখন
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে যা বলছেন কর্মকর্তারা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত