ঢাকা, বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

দুর্বল ব্যাংক একযোগে ঠিক করা অসম্ভব: গভর্নর

২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৫:৪৭:১৩

দুর্বল ব্যাংক একযোগে ঠিক করা অসম্ভব: গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা কাটাতে সংস্কার জরুরি হলেও অর্থসংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে—এমন বাস্তবতার কথা জানালেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, বর্তমানে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় একসঙ্গে সব দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক লোক বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

গভর্নর জানান, অতীতে কয়েকটি খারাপ ব্যাংক টিকিয়ে রাখতে টাকা ছাপাতে হয়েছে, যার প্রভাব এখনো অর্থনীতিতে রয়ে গেছে। এ কারণে বর্তমানে তারল্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রথমে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে, এরপর ধাপে ধাপে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সংস্কারে হাত দেওয়া হবে।

ঋণখেলাপি ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ড. মনসুর বলেন, শতভাগ খেলাপি ঋণ কাভারেজ না থাকলে কোনো ব্যাংক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব একেবারেই কাম্য নয়। দুর্বল ব্যাংককে কোনোভাবেই লভ্যাংশ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশে এবং পরবর্তী বছরের মার্চে তা ২৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্যে কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, সরকার রাষ্ট্রমালিকানাধীন দুটি ব্যাংক রেখে বাকি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো একীভূত করার পরিকল্পনা করছে। গভর্নরের মতে, বাংলাদেশের মতো অর্থনীতির জন্য ১৫টির বেশি ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। আগামী দুই থেকে তিন বছরে ১২ থেকে ১৩টি ব্যাংককে কার্যকর ও সুস্থ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্যাংক রেজুলেশন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলোর নিজস্ব অর্থায়নে একটি রেজুলেশন ফান্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই তহবিল গড়ে উঠলে সংকটকালে সরকারকে আর আর্থিক সহায়তার জন্য এগিয়ে আসতে হবে না।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংকিং খাতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত যেন কোনোভাবেই প্রভাব ফেলতে না পারে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। দুর্বৃত্তায়ন, অনিয়ম, পরিবারতন্ত্র এবং সুশাসনের ঘাটতির কারণে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে, যার একটি বড় অংশ পাচার হয়ে থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরোপুরি স্বাধীন না হলেও বর্তমানে স্বাধীনভাবে কাজ করছে। তবে ভবিষ্যতে এই স্বাধীনতা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তিনি মনে করেন, কার্যকর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

এছাড়া রাজস্ব ফাঁকি প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, দেশে নগদ লেনদেনই কর ফাঁকির প্রধান মাধ্যম। ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলা গেলে বছরে দেড় থেকে দুই লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব হতে পারে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত