ঢাকা, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২

হঠাৎ বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট বাজারে

২০২৬ মার্চ ০৮ ১২:৫৮:৩৯

হঠাৎ বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট বাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং এর প্রভাব নিয়ে দাম বাড়ার আশঙ্কায় রাজধানীর ভোক্তারা চাহিদার তুলনায় বেশি তেল কিনতে শুরু করেছেন। ফলে রাজধানীর বাজারে হঠাৎ করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হলেও সীমিত সরবরাহের কারণে ক্রেতারা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কিনছেন, যা বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে।

রাজধানীর শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, শাহজাদপুর, দক্ষিণ বনশ্রী ও মেরাদিয়া বাজারের অধিকাংশ দোকানে এখন পাঁচ লিটারের বোতল পাওয়া যায় না। কোথাও এক বা দুই লিটারের বোতল সীমিতভাবে থাকলেও অনেক দোকানে নেই।

শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, তার প্রয়োজন ছিল দুই লিটারের বোতল, কিন্তু আশপাশের দোকানগুলোতে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচ লিটারের বোতল কিনতে হয়েছে।

মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী সুজন জানান, স্বাভাবিক সময়ে দিনে ৮-১০ কার্টন তেল ডিলারের কাছ থেকে পাওয়া যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সরবরাহ কমে দুই তিন কার্টনে নেমে এসেছে।

বিক্রেতারা জানান, কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে তেল সরবরাহ কমছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ক্রেতারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনছেন। ফলে বাজারে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

কারওয়ান বাজারে ডিলারের দোকানে বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতারা ভিড় করছেন, কিন্তু সবাই চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। মগবাজারের এক বিক্রেতা মো. পলাশ জানান, আগে যেখানে চার কার্টন তেল নিতেন, এখন ডিলার এক কার্টনের বেশি দিচ্ছে না।

বাজারে সরবরাহ কমার সঙ্গে সঙ্গে দামও কিছুটা বেড়েছে। পাঁচ লিটারের বোতল সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) ৯৫৫ টাকা থাকলেও আগে প্রায় ৯৩০ টাকায় পাওয়া যেত। এখন অনেক দোকানদারকে ৯৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে খুচরা বিক্রেতাদের মুনাফা কমেছে।

এদিকে বোতলজাত তেলের সংকটের সঙ্গে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বেড়েছে। কারওয়ান বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে প্রায় পাঁচ টাকা বেড়ে ১৯৮-২০০ টাকা, আর খোলা পাম তেলের দাম কেজিতে প্রায় ১৭০ টাকা পৌঁছেছে।

তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ সংকটের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মেঘনা গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, তারা নিয়মিত তেল সরবরাহ করছেন এবং রমজানকে সামনে রেখে অতিরিক্ত তেল আমদানি করা হয়েছে।

সিটি গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, এলসি সংক্রান্ত জটিলতা ও মজুদের কারণে কিছু ছোট কোম্পানি তেল আমদানি করতে পারছে না। তবে সরবরাহ কমানো হয়নি।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহ্মেদ জানিয়েছেন, বাজারে সরবরাহ–সংকটের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত