ঢাকা, শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২

ভারতে গোরক্ষক হামলায় মুসলিম যুবকের মৃ'ত্যু

২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ১৬:১৮:১৭

ভারতে গোরক্ষক হামলায় মুসলিম যুবকের মৃ'ত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উড়িষ্যার বালাসোরে গোরক্ষক হামলায় আরও এক মুসলিম যুবক নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই বর্বরোচিত ঘটনায় নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছেন, যদিও অনেকেই এতে জড়িত ছিল, এখনও সকলকে গ্রেফতার করা হয়নি।

জানা গেছে, ৩৫ বছর বয়সী এসকে মাকান্দার মোহাম্মদ মঙ্গলবার রাতে সন্তানদের স্থানীয় মকর মেলা দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু পরের ভোরে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, গরু পরিবহনের অভিযোগ তুলে একদল লোক তাকে মারধর করে।

নিহতের ভাই এসকে জিতেন্দর মোহাম্মদ জানান, মাকান্দার তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। তিনি স্ত্রী, তিন সন্তান যার মধ্যে একজন মাত্র দুই মাসের, এবং পক্ষাঘাতগ্রস্ত বাবা-মায়ের দায়িত্ব পালন করতেন। তারা বালাসোর শহরের উপকণ্ঠের আস্তিয়া এলাকার বাসিন্দা।

জিতেন্দরের কথায়, মাকান্দার বালাসোর শহরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তার দৈনিক আয় ছিল প্রায় ৫০০ রুপি। ‘সেদিন কেন তিনি ওই ভ্যানে উঠেছিলেন, তা আমরা জানি না,’ বলেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরে মাকান্দার একটি ভ্যানে যাচ্ছিলেন, যেখানে গবাদিপশু পরিবহনের অভিযোগ ওঠে। পথে ভ্যানের চালক ও মাকান্দারকে একদল ব্যক্তি আটক করে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বালাসোর জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

প্রাথমিকভাবে, বালাসোর সদর থানার এক উপপরিদর্শক একটি মামলা দায়ের করেন। ওই এফআইআরে ভ্যান চালক ও মালিকের নাম উল্লেখ থাকলেও হামলার বিষয়টি ছিল না। মামলায় বলা হয়, জয়দেব কাসবা দিক থেকে দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে চলা গবাদিপশুবোঝাই পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে পশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন, উড়িষ্যা গো-হত্যা প্রতিরোধ আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার কয়েকটি ধারায় মামলা করা হয়।

পরবর্তীতে জিতেন্দরের অভিযোগের ভিত্তিতে আলাদা এফআইআর দায়ের করা হয়। এতে তিনি অভিযোগ করেন, পাঁচ ব্যক্তি রাস্তায় ভ্যানটি আটকে তার ভাইকে প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করেছে।

পরিবারের দাবি, মাকান্দারের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত ছিল। এক স্বজন বলেন, ‘পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমরা সেখানে পৌঁছালে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।’

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে জিতেন্দরের দাবি, আরও অনেকে জড়িত। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেফতার করবে। কেউ নিজের হাতে বিচার চালাতে পারবে না। আমার ভাই যদি কোনো অপরাধ করত, তাকে পুলিশকে হস্তান্তর করা হতো। ভবিষ্যতে এমন নৃশংসতা আর যেন না ঘটে।’

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত