ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বেক্সিমকোর ৩ কোম্পানিকে বিএসইসির আলটিমেটাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের প্রধান তিনটি প্রতিষ্ঠান—বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এবং শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেডে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো পর্ষদ সভা না হওয়ায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এই কোম্পানিগুলোর সকল পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিএফও ও কোম্পানি সচিবকে জরুরি ভিত্তিতে বোর্ড সভা ডাকার নির্দেশ দিয়েছে। কমিশনের জারি করা এই আদেশ আগামী ১২ কর্মদিবসের মধ্যে বাস্তবায়ন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
টানা পর্ষদ সভা না হওয়ার ফলে এই তিন কোম্পানির স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের বহুল প্রতীক্ষিত ডিভিডেন্ড ঘোষণা, বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন এবং ব্যবসায়িক কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো আইনি প্রক্রিয়াগুলো আটকে আছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং করপোরেট সুশাসন বজায় রাখতেই কমিশন এই জরুরি হস্তক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত বিএসইসির আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব এবং চলতি বছরের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন দাখিলে চরম ব্যর্থতা দেখিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য বলছে, বেক্সিমকো লিমিটেডসহ অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানও এখন পর্যন্ত কোনো আর্থিক তথ্য সরবরাহ করেনি। এই ধরণের গোপনীয়তা ও অনিয়ম বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে।
বেক্সিমকো গ্রুপের এই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ নিয়ে আইনি লড়াই চলছিল এবং উচ্চ আদালতের একটি স্থগিতাদেশ ছিল। সম্প্রতি আপিল বিভাগ সেই নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেওয়ায় কমিশনের ক্ষমতা পুনরায় সক্রিয় হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পর্ষদ সভা করার জন্য নির্দিষ্টভাবে এই তিন কোম্পানিকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
মুখপাত্র আরও নিশ্চিত করেছেন যে, আইন অনুযায়ী অন্যান্য অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কমিশন ব্যবস্থা নিচ্ছে। ধাপে ধাপে পর্ষদ পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে যাতে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়া পর্ষদ সদস্যদের ওপর যে নামমাত্র জরিমানা করা হয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য এবং অনেক ক্ষেত্রে কয়েক বছর পর এই জরিমানা ধার্য করা হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব জরিমানার বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন অনাদায়ী থেকে যায়। এই অর্থ আদায়ে কমিশনকে বছরের পর বছর সার্টিফিকেট মামলা চালাতে হয়, যেখানে মামলা পরিচালনা করতেই সরকারের প্রচুর ক্যাশ বা অর্থ ব্যয় হয়ে যায়। ফলে কঠোর এবং তাৎক্ষণিক আইন প্রয়োগ ছাড়া শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- ছাদখোলা গাড়িতে লংমার্চে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, গাড়িটি কার?