ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বেক্সিমকোর ৩ কোম্পানিকে বিএসইসির আলটিমেটাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের প্রধান তিনটি প্রতিষ্ঠান—বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এবং শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেডে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো পর্ষদ সভা না হওয়ায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এই কোম্পানিগুলোর সকল পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিএফও ও কোম্পানি সচিবকে জরুরি ভিত্তিতে বোর্ড সভা ডাকার নির্দেশ দিয়েছে। কমিশনের জারি করা এই আদেশ আগামী ১২ কর্মদিবসের মধ্যে বাস্তবায়ন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
টানা পর্ষদ সভা না হওয়ার ফলে এই তিন কোম্পানির স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের বহুল প্রতীক্ষিত ডিভিডেন্ড ঘোষণা, বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন এবং ব্যবসায়িক কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো আইনি প্রক্রিয়াগুলো আটকে আছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং করপোরেট সুশাসন বজায় রাখতেই কমিশন এই জরুরি হস্তক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত বিএসইসির আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব এবং চলতি বছরের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন দাখিলে চরম ব্যর্থতা দেখিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য বলছে, বেক্সিমকো লিমিটেডসহ অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানও এখন পর্যন্ত কোনো আর্থিক তথ্য সরবরাহ করেনি। এই ধরণের গোপনীয়তা ও অনিয়ম বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে।
বেক্সিমকো গ্রুপের এই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ নিয়ে আইনি লড়াই চলছিল এবং উচ্চ আদালতের একটি স্থগিতাদেশ ছিল। সম্প্রতি আপিল বিভাগ সেই নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেওয়ায় কমিশনের ক্ষমতা পুনরায় সক্রিয় হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পর্ষদ সভা করার জন্য নির্দিষ্টভাবে এই তিন কোম্পানিকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
মুখপাত্র আরও নিশ্চিত করেছেন যে, আইন অনুযায়ী অন্যান্য অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কমিশন ব্যবস্থা নিচ্ছে। ধাপে ধাপে পর্ষদ পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে যাতে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়া পর্ষদ সদস্যদের ওপর যে নামমাত্র জরিমানা করা হয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য এবং অনেক ক্ষেত্রে কয়েক বছর পর এই জরিমানা ধার্য করা হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব জরিমানার বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন অনাদায়ী থেকে যায়। এই অর্থ আদায়ে কমিশনকে বছরের পর বছর সার্টিফিকেট মামলা চালাতে হয়, যেখানে মামলা পরিচালনা করতেই সরকারের প্রচুর ক্যাশ বা অর্থ ব্যয় হয়ে যায়। ফলে কঠোর এবং তাৎক্ষণিক আইন প্রয়োগ ছাড়া শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)