ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
১৫ বছরে শেয়ারবাজারে ১০০ ডলার নেমে এলো ৪১ ডলারে
নিজস্ব প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বিচারে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে হতাশাজনক অভিজ্ঞতার একটি। মর্গান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনালের (এমএসসিআই) হিসাব বলছে, গত দেড় দশকে এ বাজারে প্রতি ১০০ ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের হাতে টিকে আছে মাত্র ৪১ ডলার। অর্থাৎ ডলারের হিসাবে মূলধনের প্রায় ৫৯ শতাংশই হারিয়েছেন তারা। বৈশ্বিক ও অন্যান্য ফ্রন্টিয়ার মার্কেটের তুলনায় এই চিত্র বাংলাদেশের বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় গভীর চিড় ধরিয়েছে।
এমএসসিআই-এর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, একই সময়ে বৈশ্বিক সূচকের মান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৮.৪৯ ডলারে এবং ফ্রন্টিয়ার মার্কেটগুলো পৌঁছেছে ২৩৫.৩৫ ডলারে। অথচ বাংলাদেশের সূচক আটকে আছে মাত্র ৫০.৩৯ ডলারে। নিট রিটার্নের হিসাবে ব্যবধান আরও স্পষ্ট। ২০০৯ সালের নভেম্বর থেকে এমএসসিআই বাংলাদেশ সূচক গড়ে বছরে মাইনাস ৩.৩৪ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে, যেখানে বৈশ্বিক সূচক ধারাবাহিকভাবে ১০ শতাংশের বেশি ইতিবাচক রিটার্ন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতায় সমজাতীয় বাজারগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নেমে এসেছে একেবারে নিচের দিকে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারের দর দীর্ঘদিন ধরে বাড়তে না পারা, তারল্যের ঘাটতি এবং টাকার বিপরীতে ডলারের অস্বাভাবিক শক্তিশালী অবস্থান—এই তিনটি কারণ একসঙ্গে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিকে বহুগুণ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে স্থানীয় মুদ্রায় শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য তা বড় লোকসানে পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে ফ্লোর প্রাইসের মতো নীতিগত হস্তক্ষেপ ও ঘন ঘন বিধিনিষেধ পরিবর্তনের কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে বাংলাদেশি বাজার থেকে সরে যাচ্ছেন। এমএসসিআই ও এফটিএসই রাসেলের মতো বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের ওজন ও উপস্থিতি কমে যাওয়াও সেই প্রবণতারই প্রতিফলন।
বর্তমানে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা হলেও লেনদেনের চিত্র বেশ হতাশাজনক। গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত মাসিক বিদেশি লেনদেন নেমে এসেছে মাত্র ৫ মিলিয়ন ডলারে, যা অক্টোবর বা নভেম্বরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একই মাসে বিদেশিরা প্রায় ১২০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করলেও বিপরীতে কিনেছেন মাত্র ২ কোটি টাকার শেয়ার। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, গ্রামীণফোন ও ব্র্যাক ব্যাংকের মতো বড় মূলধনী কোম্পানি থেকেই মূলত তারা বিনিয়োগ প্রত্যাহার করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের শেয়ারবাজারে সূচক নির্ধারণের পদ্ধতি এখনো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে মৌলভিত্তি শক্তিশালী অনেক শেয়ারের প্রকৃত অবস্থা ডিএসইর সূচকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। এমএসসিআইয়ের মতো বৈশ্বিক সূচক প্রদানকারীরা যেখানে ডিভিডেন্ড ইয়িল্ড, লিভারেজ ও দামের অস্থিরতার মতো সূচককে গুরুত্ব দেয়, সেখানে স্থানীয় বাজারে সেই বিশ্লেষণের প্রতিফলন তুলনামূলকভাবে কম। আগামী অর্থবছরগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ ফেরাতে হলে বাজারের কাঠামোগত সংস্কার এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- আফগান যুবাদের কাছে হারল বাংলাদেশের যুবারা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহমুদ আলমের মৃত্যু, উপাচার্যের শোক
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা কি অংশ নিতে পারবে? জানুন বিস্তারিত
- জেনে নিন আজকের বাজারে ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কত? জেনে নিন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ অক্টোবর)
- ১৫ দিনের ব্যবধান দুইবার হবে শারদীয় দুর্গাপূজা
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- নতুন পে-স্কেলে শিক্ষকদের বেতন কবে, জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়
- নভেম্বরে টানা তিন দিনের ছুটির সুযোগ, যারা পাবেন
- ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা: ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত? জেনে নিন
- এসএসসির টেস্ট পরীক্ষা ২৮ অক্টোবর থেকে, ফল প্রকাশ ১৫ নভেম্বর
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা