ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২

পোস্টাল ব্যালটে অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ সালাহউদ্দিনের

২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১৪:৪৭:৪১

পোস্টাল ব্যালটে অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ সালাহউদ্দিনের

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য চালু হওয়া পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসি সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, "বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি প্রথম উদ্যোগ, তাই কিছু ভুল হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেসব তথ্য আমাদের কাছে আসছে, তাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে কোনো কোনো বাসায় ২০০ থেকে ৩০০টি করে ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে। একজনের ব্যালট অন্য কেউ গ্রহণ করছে—এমন ঘটনাও সামনে এসেছে। আমাদের ধারণা, একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে এই ব্যালটগুলো ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে।"

এসব অনিয়মের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, "এক জায়গায় বিপুলসংখ্যক ব্যালট পাওয়া গেলে তার দায় কার, তা স্পষ্ট করতে হবে। কমিশন আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যাখ্যা দেবে।"

আচরণবিধি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ভোটারদের সুবিধার্থে ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক রাখার অনুমতি দেওয়া উচিত। বর্তমানে আচরণবিধিতে এটি নিষিদ্ধ থাকলেও ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে ইসি চাইলে এই নিয়ম পরিবর্তন করতে পারে।

এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে বলেন, "আগে আচরণবিধি লঙ্ঘনের আশঙ্কায় বিএনপির অনুরোধে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফর স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে অন্য অনেক দলের নেতারা প্রকাশ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও কমিশন নীরব থাকছে।"

পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যে বিএনপি একটি প্রস্তাব দিয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিটি আসনের জন্য আলাদা প্রতীক সংবলিত ব্যালট না ছাপিয়ে সাধারণ নির্বাচনের জন্য ব্যবহৃত সাধারণ ব্যালটই পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা উচিত। এতে জটিলতা কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে। নির্বাচন কমিশন এই প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।

বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং বিএনপির আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত