ঢাকা, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২
এবার ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি দিল ইরান
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইরানের রাজপথে সরকারবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই রূপ নিচ্ছে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে জন্ম নেওয়া এই বিক্ষোভ এখন শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে, যার জেরে দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ আরও তীব্র হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে, গত দুই সপ্তাহে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন ও সামরিক হুমকির জবাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে—দেশে হামলা হলে পাল্টা আঘাত হবে ব্যাপক ও তাৎক্ষণিক।
রোববার (১১ জানুয়ারি) ইরানের পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর আক্রমণ হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ এবং ইসরায়েলকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত অধিবেশনে গালিবাফ বলেন, ইরান কেবল হামলার পর প্রতিক্রিয়া জানাবে—এমন নীতি অনুসরণ করবে না। হুমকির বাস্তব ইঙ্গিত মিললেই আগাম আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যের পর সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষে দাঁড়িয়ে ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান দেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইরান স্বাধীনতার পথে এগোচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে সহায়তা দিতে প্রস্তুত। নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের একাধিক বিকল্প ইতিমধ্যে ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে—মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএনএর তথ্যমতে, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ২০৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৬২ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪১ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।
এ ছাড়া দেশজুড়ে ৩ হাজার ২৮০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
সব দমন–পীড়নের মধ্যেও তেহরান, মাশহাদসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কোথাও ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে ভিডিও ফুটেজ বাইরে পাঠানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উত্তর তেহরানে বিক্ষোভকারীরা মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে জড়ো হচ্ছেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতন ও তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের জেরে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মূল্য ১৪ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। অর্থনৈতিক দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সরাসরি ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ: রেজাল্ট দেখুন এক ক্লিকে
- ইবতেদায়ি বৃত্তির ফল প্রকাশ: মোট বৃত্তি পেল ১১ হাজার ১৮০ জন শিক্ষার্থী
- বাংলাদেশ বনাম চীনের ফুটবল ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- পুলিশে ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ: আবেদনের যোগ্যতা ও নিয়মাবলী
- প্রকাশিত হলো ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফলাফল, দেখুন এখানে
- বাংলাদেশ বনাম চীনের ফুটবল ম্যাচ: কবে, কখন, কোথায়-জানুন সময়সূচি
- সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে ঢাবির যুগান্তকারী ‘লস রিকভারি প্ল্যান’
- হঠাৎ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ঢাকা
- বিক্রিতে ধস, অথচ শেয়ার দরে উল্লম্ফন: জি কিউ বলপেনের রহস্য কী?
- ডুসাসের নেতৃত্বে জিসান-সাবরিন
- উৎপাদন বন্ধ থাকায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামল তালিকাভুক্ত কোম্পানি
- একই কক্ষপথে যাত্রা, এক বছর পর তিন মেরুতে তিন কোম্পানি
- মারা যাওয়ার আগে কী বার্তা দিলেন জাহের আলভীর স্ত্রী?
- বাংলাদেশ বনাম চীন ফুটবল ম্যাচ: জেনে নিন ফলাফল
- আতঙ্ক কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই, সূচকের বড় লাফ