ঢাকা, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২

ব্যালট বাক্স নষ্ট বা ছিনতাই হলে যে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি

২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১৭:৪৫:১০

ব্যালট বাক্স নষ্ট বা ছিনতাই হলে যে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটগ্রহণ চলাকালে যদি কোনো কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স নষ্ট, হারিয়ে যাওয়া বা জোরপূর্বক অপসারণের ঘটনা ঘটে, তবে সেই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হবে। এমন পরিস্থিতিতে ওই কেন্দ্রের ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না এবং নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনে নতুন তারিখ নির্ধারণ করে পুনঃভোটগ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক পরিপত্র জারি করে এ নির্দেশনা প্রকাশ করেছে।

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটগ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে অনুষ্ঠিত হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসাররা ভোটগ্রহণের সময় ও তারিখ উল্লেখ করে স্থানীয়ভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করবেন এবং প্রচারের ব্যবস্থা করবেন।

এতে আরও বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণ চলাকালীন প্রিজাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো কারণে ভোট বিঘ্নিত হলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনরায় শুরু করা সম্ভব না হলে ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হবে। একইভাবে ব্যালট বাক্স ক্ষতিগ্রস্ত, অপসারণ বা হারিয়ে গেলে, যেখানে ফল নির্ধারণ সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রেও ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকবে। বন্ধ ঘোষিত কেন্দ্রের ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না এবং রিটার্নিং অফিসার কমিশনের অনুমোদন নিয়ে পুনঃভোটের ব্যবস্থা করবেন।

যদি কোনো নির্বাচনি এলাকার সমগ্র ফল নির্ধারণযোগ্য না হয়, কমিশন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পুনঃভোট গ্রহণের নির্দেশ দেবেন। ওই কেন্দ্রে সকল ভোটার নতুন তারিখে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, ভোটদানের সময় বলপ্রয়োগ, চাপ, ভীতি প্রদর্শন বা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না হলে কমিশন যেকোনো পর্যায়ে ভোটগ্রহণ এবং সম্পূর্ণ নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত করার ক্ষমতা রাখে।

ডাকযোগে ভোট প্রদানের বিষয়টিও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রবাসী এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির ভোটাররা পোস্টাল ব্যালট (ওসিভি ও আইসিপিভি) ব্যবস্থায় ভোট দিতে পারবেন। এজন্য কমিশনের নির্ধারিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন এবং নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক সম্বলিত পরিবেশবান্ধব ব্যানার প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাসহ ফেস্টুন দৃশ্যমান স্থানে রাখতে হবে। গণভোট উপলক্ষ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে পৃথক ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যাতে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবসমূহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।

ভোটগ্রহণ শেষে প্রিজাইডিং অফিসাররা জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগণনার বিবরণীর একটি কপি ডাকযোগে সরাসরি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। এজন্য প্রতিটি কেন্দ্রে বিশেষ খাম সরবরাহ করা হবে এবং পোস্ট অফিসগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে খাম দ্রুত পাঠানো যায়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত