ঢাকা, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২

বিদেশিদের পুঁজি প্রত্যাহারের চাপে নড়বড়ে ব্লু-চিপ শেয়ার

২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১০:৪০:০৮

বিদেশিদের পুঁজি প্রত্যাহারের চাপে নড়বড়ে ব্লু-চিপ শেয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসজুড়ে তারা ধারাবাহিকভাবে শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের পুঁজি তুলে নিয়েছেন, যা বাজারের সামগ্রিক বিনিয়োগ চিত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, আলোচ্য মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ১২০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এর বিপরীতে তাদের ক্রয় কার্যক্রম ছিল প্রায় নিষ্ক্রিয়, যেখানে মোট কেনাবেচার বিপরীতে ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬০ লাখ টাকায়। এর ফলে ডিসেম্বর শেষে নিট বিদেশি বিনিয়োগে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এই বিপুল পুঁজি প্রত্যাহারের বড় অংশ এসেছে শক্তিশালী মৌলভিত্তি ও দীর্ঘদিনের বিনিয়োগযোগ্য হিসেবে পরিচিত ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে। সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, গ্রামীণফোন, সিটি ব্যাংক এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রি করেই বিদেশিরা মূলত বাজার ছাড়ার পথ বেছে নিয়েছেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টে বিদেশি মালিকানায় সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে। নভেম্বর মাসে কোম্পানিটিতে বিদেশি অংশীদারিত্ব যেখানে ছিল ৩.৬৯ শতাংশ, ডিসেম্বরে তা কমে মাত্র ০.০১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে সিটি ব্যাংকে বিদেশি মালিকানা ০.৬৪ শতাংশ কমে ৫.৪০ শতাংশে নেমেছে এবং গ্রামীণফোনে এই হার ০.৮৭ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ০.৮০ শতাংশ।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আরেকটি দীর্ঘদিনের পছন্দের শেয়ার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস থেকেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র এই কোম্পানি থেকেই ডিসেম্বর মাসে প্রায় ১৪ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন বিদেশিরা।

বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত প্রায় ৩৬০টি কোম্পানির মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে মাত্র ১৩২টিতে। এসব কোম্পানির মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকে বিদেশি মালিকানা সবচেয়ে বেশি, যা ৩৬.০৬ শতাংশ।

এছাড়া বিদেশি অংশীদারিত্বের দিক থেকে শীর্ষ পর্যায়ে থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে রয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, যেখানে বিদেশি মালিকানা ৩২.৮৩ শতাংশ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসে ২৭.৩৫ শতাংশ এবং নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসে ১৯.৬৪ শতাংশ।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত অর্থে সক্রিয় বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা মূলত ২৫টির মতো বড় ও মৌলভিত্তি শক্তিশালী কোম্পানিতেই সীমাবদ্ধ রয়েছেন। এসব কোম্পানির শেয়ারেই বিদেশিদের কেনাবেচার বড় অংশ কেন্দ্রীভূত থাকে, যা বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত