ঢাকা, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২

মানুষ কি ফেরেশতাকে দেখতে পারে? কোরআন কি বলে

২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১৪:৪৭:০৩

মানুষ কি ফেরেশতাকে দেখতে পারে? কোরআন কি বলে

নিজস্ব প্রতিবেদক: অদৃশ্য জগতের অন্যতম বিস্ময়কর সৃষ্টি হলো ফেরেশতা। ইসলামী আকিদা অনুযায়ী, আল্লাহ তায়ালার আদেশ বাস্তবায়নে তারা মানুষের দৃষ্টির আড়ালেই নিয়োজিত থাকেন। তবে কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় জানা যায়, বিশেষ পরিস্থিতিতে ফেরেশতারা মানুষের সামনে দৃশ্যমান হয়েছেন—তাও আবার মানুষের অবয়বে।

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, শুধু নবী-রাসুলরাই নন, সাধারণ মানুষের পক্ষেও ফেরেশতার সাক্ষাৎ পাওয়া তাত্ত্বিকভাবে অসম্ভব নয়। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত একাধিক ঘটনার মধ্য দিয়ে এই বাস্তবতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

কোরআনে উল্লেখ রয়েছে, আল্লাহ তায়ালা হজরত মারইয়াম (আ.)-এর কাছে হজরত জিবরাইল (আ.)-কে মানুষের রূপে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে জিবরাইল (আ.) একজন পরিপূর্ণ মানব অবয়বে মারইয়ামের সামনে উপস্থিত হন, যা ফেরেশতাদের মানবাকৃতি ধারণের একটি স্পষ্ট দৃষ্টান্ত।

এভাবেই হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কাছেও একদল ফেরেশতা মানুষের বেশে আগমন করেন। শুরুতে তিনি তাদের পরিচয় বুঝতে পারেননি এবং অতিথি হিসেবে আপ্যায়নও করেছিলেন। পরবর্তীতে ফেরেশতারাই নিজেদের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করেন। কোরআনে এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।

হজরত লুত (আ.)-এর ঘটনাতেও একই চিত্র দেখা যায়। ফেরেশতারা সেখানে সুদর্শন যুবকের রূপে উপস্থিত হন। তাদের সৌন্দর্য দেখে লুত (আ.) গভীর উদ্বেগে পড়ে যান, কারণ তাঁর সম্প্রদায় ছিল নৈতিক অবক্ষয়ের চরম পর্যায়ে। এই ঘটনাও কোরআনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

এসব কোরআনিক ঘটনার আলোকে আলেমদের অভিমত হলো— মানুষের পক্ষে ফেরেশতাকে দেখা সম্ভব, তা জাগ্রত অবস্থায় হোক কিংবা স্বপ্নে। তবে কোনো ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে দাবি করতে পারেন না যে, তিনি যে সত্তাকে দেখেছেন, সেটি ফেরেশতাই ছিল।

কারণ ফেরেশতা শনাক্ত করার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ তায়ালার ওহীর ওপর নির্ভরশীল। এমনকি হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত লুত (আ.)-এর মতো মহান নবীরাও প্রথমে ফেরেশতাদের চিনতে পারেননি। তাই সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ফেরেশতা দর্শনের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব বলেই আলেমরা মত দিয়েছেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত