ঢাকা, বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২

ওসমান হাদি হ'ত্যার মাস্টারমাইন্ডের পরিচয় প্রকাশ

২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৮:১১:২০

ওসমান হাদি হ'ত্যার মাস্টারমাইন্ডের পরিচয় প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের লড়াকু সৈনিক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির তদন্তে উঠে এসেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির সরাসরি পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “পতিত আওয়ামী সরকারের অপকর্ম ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে হাদির সোচ্চার অবস্থানই তার কাল হয়েছে। মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ ঘটনায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও মূল পরিকল্পনাকারী বাপ্পী এবং গুলিবর্ষণকারী ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখসহ ৫ জন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পুলিশের ধারণা, তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। গুলিবর্ষণকারী ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একজন সাবেক নেতা।

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে ডিবি প্রধান জানান, ওসমান হাদি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করেছিলেন এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করতেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে যুবলীগ নেতা বাপ্পী তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক আঁকেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় হাদিকে লক্ষ্য করে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে মাথায় গুলি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত