ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২
আইপিও’র টাকায় খেলাপি ঋণ শোধে কঠোর হলো বিএসইসি
নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ‘পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫’ প্রবর্তন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন এই বিধিমালায় আইপিও অনুমোদনের প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে তহবিলের ব্যবহার—প্রতিটি ক্ষেত্রেই আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আইপিও থেকে উত্তোলিত অর্থের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ঋণ পরিশোধ বা বিনিয়োগে ব্যবহার করা যাবে। তবে শর্ত হলো, সেই ঋণ অবশ্যই কোম্পানির প্রকল্প, যন্ত্রপাতি কেনা বা ব্যবসার সম্প্রসারণে ব্যবহৃত হতে হবে এবং অডিটরের মাধ্যমে তার প্রমাণ দিতে হবে। এছাড়া খেলাপি বা রিশিডিউল করা ঋণ আইপিও’র টাকা দিয়ে শোধ করা যাবে না। ২০১৫ সালের বিধিমালার তুলনায় এটি অনেক বেশি কঠোর, কারণ আগে এক-তৃতীয়াংশ টাকা যেকোনো ঋণ পরিশোধে ব্যবহারের সুযোগ ছিল।
দেশের শীর্ষস্থানীয় মার্চেন্ট ব্যাংক ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট এই পরিবর্তনকে ‘যুগান্তকারী’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, নতুন আইন কেবল নথিপত্র নয়, বরং কোম্পানির প্রকৃত ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও আর্থিক ভিত্তির ওপর জোর দেয়। এর ফলে দুর্বল কোম্পানিগুলোর কেবল কাগজপত্র গুছিয়ে বাজারে আসার প্রবণতা কমবে।
বুক-বিল্ডিং প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো প্রাইস ডিসকাউন্ট তুলে দেওয়া। এখন থেকে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ—সব বিনিয়োগকারীকে একই ‘কাট-অফ’ প্রাইসে শেয়ার কিনতে হবে। এছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য পুনরায় লটারি সিস্টেম চালু করা হয়েছে, যা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালিকাভুক্তির নতুন শর্তাবলী:
ন্যূনতম মূলধন: আইপিও’র আগে পরিশোধিত মূলধন হতে হবে ৩০ কোটি টাকা এবং আইপিও-পরবর্তী মূলধন হতে হবে ৫০ কোটি টাকা।
লাভজনক অবস্থা: প্রিমিয়ামে শেয়ার ছাড়তে হলে কোম্পানিকে অন্তত ৩ বছর বাণিজ্যিক উৎপাদনে থাকতে হবে এবং শেষ ২ বছর নিট মুনাফায় থাকতে হবে।
গ্রিনফিল্ড কোম্পানি: নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের ৭৫ শতাংশ শেয়ার ধরে রাখতে হবে এবং মুনাফা না আসা পর্যন্ত ২ বছর শেয়ার বিক্রি করা যাবে না।
এখন থেকে স্টক এক্সচেঞ্জগুলো ‘গেটকিপার’ হিসেবে কাজ করবে। তারা প্রসপেক্টাস যাচাই, কারখানা পরিদর্শন এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মতামত সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করবে। তাদের জোরালো সুপারিশ ছাড়া বিএসইসি কোনো আইপিও অনুমোদন দেবে না। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য ৯০ থেকে ১৮০ দিনের ‘লক-ইন’ পিরিয়ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বল্প মেয়াদে আইপিও’র সংখ্যা কমলেও দীর্ঘ মেয়াদে এই বিধিমালা পুঁজিবাজারে গুণগত পরিবর্তন আনবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- চলছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বনাম সিলেট টাইটান্সের ম্যাচ-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- শেয়ারবাজার স্থিতিশীলতায় বড় পদক্ষেপ নিল বিএসইসি
- রাজশাহী বনাম চট্টগ্রাম: ৯০ রানে নেই ৭ উইকেট-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শ্রদ্ধা
- শেয়ারবাজার আধুনিকীকরণে বিএসইসির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
- ঢাকা ক্যাপিটালস বনাম রংপুর রাইডার্স: জমজমাট খেলাটি চলছে-দেখুন সরাসরি
- মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের লোকসানের পাল্লা আরও ভারী হলো
- রাজশাহী বনাম সিলেটের জমজমাট ম্যাচটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- প্রত্যাশার বাজারে সূচকের উত্থান অব্যাহত
- স্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতিতে লেনদেন, ডিএসইতে সূচকের শক্ত অবস্থান
- ১০ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা দিলেন কোম্পানির পরিচালক
- ২৫ লাখ শেয়ার হস্তান্তরের ঘোষণা উদ্যোক্তা পরিচালকের
- সূচক কমলেও স্বস্তিতে বাজার, লেনদেন বেড়েছে
- অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেশেয়ারবাজার
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৩ জানুয়ারি)