ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২

ঢাকায় জামায়াতের ১৩ কোটিপতি প্রার্থী: শীর্ষে কে, কার আয় সবচেয়ে কম?

২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১১:৫৭:২৮

ঢাকায় জামায়াতের ১৩ কোটিপতি প্রার্থী: শীর্ষে কে, কার আয় সবচেয়ে কম?

পার্থ হক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের সম্পদ ও আয়ের চিত্র। ঢাকা জেলা ও মহানগরের ২০টি আসনের মধ্যে দলটি ১৭টিতে প্রার্থী দিয়েছে। হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ১৭ প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জনই কোটিপতি যাঁদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য কোটি টাকা বা তার বেশি।

সম্পদের হিসাবে ঢাকার জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন ঢাকা-৭ আসনের (চকবাজার, বংশালসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা) প্রার্থী মো. এনায়াত উল্লা। তাঁর ঘোষিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১১৬ কোটি টাকা। তবে একই সঙ্গে তাঁর ঋণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য প্রায় ৮৩ কোটি টাকা।

আয়ের দিক থেকে সবচেয়ে কম আয় দেখিয়েছেন ঢাকা-১২ আসনের (তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, শেরেবাংলা নগর ও রমনার একাংশ) প্রার্থী মো. সাইফুল আলম। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বার্ষিক আয় এক লাখ টাকার কিছু বেশি, যা মাসিক হিসেবে প্রায় সাড়ে আট হাজার টাকা।

অন্যদিকে, সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে কম অবস্থানে আছেন ঢাকা-১৯ আসনের (সাভার ও আশুলিয়া এলাকা) প্রার্থী মো. আফজাল হোসাইন। তাঁর ঘোষিত সম্পদের মূল্য ১৯ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। যদিও হলফনামায় তিনি পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৫২ শতাংশ কৃষিজমি এবং হেবা সূত্রে পাওয়া ২৪ শতাংশ জমি ও সেখানে থাকা বাড়ির মূল্য উল্লেখ করেননি।

নির্বাচনী সমঝোতার অংশ হিসেবে ঢাকা জেলা ও মহানগরের তিনটি আসনে প্রার্থী দেয়নি জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে ঢাকা-৮ ও ঢাকা-১১ আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) যেখানে প্রার্থী হয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও নাহিদ ইসলাম। ঢাকা-১৩ আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে, যেখানে প্রার্থী মামুনুল হক। আলোচনায় রয়েছে, সমঝোতার কারণে ঢাকার আরও কিছু আসনে জামায়াত প্রার্থী প্রত্যাহার করতে পারে।

২০০৮ সাল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে হলে প্রার্থীদের হলফনামা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এতে বয়স, শিক্ষা, পেশা, আয়, সম্পদ ও দায়দেনার তথ্য উল্লেখ থাকে যাতে ভোটাররা প্রার্থীদের সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান।

হলফনামা অনুযায়ী, ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান নির্বাচন করছেন। তাঁর ঘোষিত সম্পদের মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। কোটিপতি অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১ এ মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম, ঢাকা-২ এ মো. আবদুল হক (মনোনয়ন বাতিল, আপিলের সুযোগ রয়েছে), ঢাকা-৩ এ মো. শাহীনুর ইসলাম, ঢাকা-৪ এ সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৯ এ কবির আহমদ, ঢাকা-১০ এ জসীম উদ্দীন সরকার, ঢাকা-১৪ এ মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান), ঢাকা-১৬ এ মো. আবদুল বাতেন, ঢাকা-১৭ এ স ম খালিদুজ্জামান ও ঢাকা-১৮ এ মুহাম্মদ আশরাফুল হক।

ঢাকায় জামায়াতের যেসব প্রার্থীর সম্পদ কোটি টাকার কম, তাঁরা হলেন ঢাকা-৫ এর মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-৬ এর মো. আবদুল মান্নান, ঢাকা-১৯ এর মো. আফজাল হোসাইন এবং ঢাকা-২০ এর মো. আবদুর রউফ।

আয়ের হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন এনায়াত উল্লা। তাঁর বার্ষিক আয় ৬ কোটি ৮৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করেন ঢাকা-১৭ আসনের স ম খালিদুজ্জামান বছরে প্রায় ৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রেও এনায়াত উল্লা শীর্ষে। তাঁর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯২ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যার বড় অংশ শেয়ার, বন্ড ও বিনিয়োগ। নগদ অর্থের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ রয়েছে মীর আহমাদ বিন কাসেমের ১ কোটি ১৩ লাখ টাকার বেশি।

স্থাবর সম্পদের দিক থেকেও এগিয়ে এনায়াত উল্লা। তাঁর স্থাবর সম্পদের মূল্য ২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন আবদুল বাতেন। স্থাবর সম্পদের তথ্য নেই মীর আহমাদ বিন কাসেমের হলফনামায়।

হলফনামায় ঋণের তথ্য দিয়েছেন চারজন প্রার্থী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ দেখিয়েছেন এনায়াত উল্লা। পাশাপাশি কয়েকজন প্রার্থীর স্ত্রীদের নামেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা ও সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে।

পেশাগত পরিচয়ে দেখা যায়, জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ী সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া আছেন আইনজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও চাকরিজীবী। শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান, যিনি পিএইচডিধারী।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা তথ্য গোপনের প্রমাণ মিললে প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। এমনকি নির্বাচিত হওয়ার পর তদন্তে গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচন বাতিল করার ক্ষমতাও রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত