ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২
শেয়ারবাজার বাঁচাতে আইপিও সংস্কার, ফল মিলবে কবে?
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন ধরে মানসম্পন্ন কোম্পানির অভাবে স্থবির শেয়ারবাজারে নতুন প্রাণ ফেরাতে বড় ধরনের সংস্কারে গেল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বহুল প্রতীক্ষিত নতুন আইপিও বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে।
গত ৩০ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫’ গেজেটভুক্ত হয়। সংশোধিত এই বিধিমালার মাধ্যমে আইপিও প্রক্রিয়ায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা বাজারে ভালো মানের কোম্পানি আনতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন নিয়মে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে আইপিও আবেদনের প্রাথমিক যাচাই ও অনুমোদন দেবে স্টক এক্সচেঞ্জ, আর তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই বিএসইসি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এতে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি ও বাছাই আরও শক্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিধিমালা অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে আসতে ইচ্ছুক কোনো কোম্পানির ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন হতে হবে ৩০ কোটি টাকা। পাশাপাশি আইপিও-পরবর্তী মোট শেয়ারের অন্তত ১০ শতাংশ বাজারে ছাড়তে হবে। আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থ সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মধ্যে নির্ধারিত খাতে ব্যবহার করার বাধ্যবাধকতাও আরোপ করা হয়েছে।
বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড ও মার্জিন রুলস সংস্কারের পর আইপিও বিধিমালা সংশোধন ছিল কমিশনের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তাঁর মতে, এই পরিবর্তন তাৎক্ষণিক প্রভাব না ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজারকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।
যদিও গত এক বছর ধরে বিএসইসি ভালো মানের কোম্পানি বাজারে আনতে চেষ্টা চালিয়েছে, বাস্তবে এখন পর্যন্ত কোনো বড় মাল্টিন্যাশনাল বা সরকারি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হয়নি। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা আরও গভীর হয়েছে। তাঁদের মতে, স্কয়ার ফার্মা বা গ্রামীণফোনের মতো একটি মানসম্পন্ন কোম্পানিই বাজারের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
বিএসইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ১৮টি সরকারি কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ থাকলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতার কারণে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। এমনকি প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি কার্যকর গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
বড় কোম্পানির আইপিও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব রাষ্ট্রায়ত্ত ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে দেওয়া হলেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। একসময়ের লাভজনক এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি লোকসানে পড়েছে এবং বর্তমানে ঋণনির্ভরভাবে টিকে আছে। তবে আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ আশাবাদ জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে বড় কোনো আইপিও বাজারে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। তাঁর ভাষায়, সুশাসনের ঘাটতি থাকলে ভালো কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহী হবে না।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন আইপিও বিধিমালা কারসাজি ও নিম্নমানের কোম্পানি ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। যদিও এতে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া কিছুটা কঠিন হয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য এই সংস্কার ছিল সময়ের দাবি।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- নোয়াখালী এক্সপ্রেস বনাম রংপুর রাইডার্স: ম্যাচটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাকা বনাম রাজশাহী: ২৩ বল হাতে রেখেই জয়-দেখুন ফলাফল
- চলছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বনাম ঢাকা ক্যাপিটালসের খেলা-সরাসরি দেখুন (LIVE)
- চিকিৎসা জগতের আলোকবর্তিকা ডা. কোহিনূর আহমেদ আর নেই
- রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বনাম চট্টগ্রাম রয়্যালস: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- সিলেট টাইটানস বনাম রংপুর রাইডার্স- খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- শেয়ারবাজার স্থিতিশীলতায় বড় পদক্ষেপ নিল বিএসইসি
- ডিভিডেন্ড পেতে হলে নজর রাখুন ২ কোম্পানির রেকর্ড ডেটে
- নির্বাচনের পর বাজার আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের
- বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শ্রদ্ধা
- মিশ্র সূচকের মধ্যেও বাজারে আশাবাদ অব্যাহত
- মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের লোকসানের পাল্লা আরও ভারী হলো
- সাপ্তাহিক লেনদেন বৃদ্ধিতে শীর্ষে ৬ বড় খাত
- ডিভিডেন্ড অনুমোদনে সপ্তাহজুড়ে ৩ কোম্পানিরএজিএম
- প্রত্যাশার বাজারে সূচকের উত্থান অব্যাহত