ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ পৌষ ১৪৩২

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিল আফ্রিকার দুই দেশ

২০২৬ জানুয়ারি ০১ ২০:৫৮:১৬

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিল আফ্রিকার দুই দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ১৯টি দেশের নাগরিকদের সব ধরনের ভিসা আবেদন স্থগিত করে। এর মধ্যে গ্রিন কার্ড এবং মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদনও অন্তর্ভুক্ত ছিল। জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তালিকায় আফ্রিকার একাধিক দেশও ছিল।

এরই জবাবে কয়েকটি আফ্রিকান দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভিসা প্রদান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি এবং বুরকিনা ফাসো ঘোষণা দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য সম্পূর্ণ ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। দেশ দুটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

মালি ও বুরকিনা ফাসো—দুই দেশই বর্তমানে সামরিক সরকারের অধীনে। গত মঙ্গলবার তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘পারস্পরিকতা নীতি’ (রেসিপ্রোসিটি) অনুসরণ করে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন আফ্রিকা, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার ৩৯টি দেশের ওপর নতুন ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।

মালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পারস্পরিকতার নীতির আলোকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর মালির নাগরিকদের জন্য আরোপিত একই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। বুরকিনা ফাসোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী কারামোকো জঁ-মারি ত্রাওরেও একই যুক্তি উল্লেখ করেছেন।

ডিসেম্বরের ১৬ তারিখে জারি করা মার্কিন নির্দেশনার আওতায় মালি ও বুরকিনা ফাসো ছাড়াও আরও পাঁচটি দেশের নাগরিকদের ওপর সম্পূর্ণ ভিসা নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারিত হয়েছে। দেশগুলো হলো—লাওস, নাইজার, সিয়েরা লিওন, দক্ষিণ সুদান ও সিরিয়া। এছাড়া ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যু করা ভ্রমণ নথির ধারকরাও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষিদ্ধ।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা যাচাই ব্যবস্থার দুর্বলতা, তথ্য বিনিময়ের সীমাবদ্ধতা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবস্থান করা নাগরিকের সংখ্যা এবং নিজের দেশের নাগরিক ফেরত নেওয়ার অনীহা জনিত কারণে। এছাড়া যেসব দেশে গুরুত্বপূর্ণ সন্ত্রাসীর উপস্থিতি রয়েছে, সেগুলোর কথাও বিবেচনা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

এর মধ্যে নাইজরও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। দেশটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার জবাবে তারা একই পদক্ষেপ নিয়েছে। নাইজরও বর্তমানে সামরিক সরকারের অধীনে রয়েছে। মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজর—এই তিন দেশ ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নিরাপত্তা ও বাণিজ্য জোরদারের জন্য ‘অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস’ নামে একটি জোট গঠন করেছে।

এর আগে ৬ জুন থেকে চাদ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভিসা বন্ধ করেছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। ৯ জুনের আগে যারা ভিসা পেয়েছিলেন, শুধু তাঁরা এখন চাদে প্রবেশ করতে পারছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাংক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩৯টি দেশের নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে পূর্ণ বা আংশিক নিষেধাজ্ঞার মুখে।

পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো—আফগানিস্তান, বুরকিনা ফাসো, চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লাওস, লিবিয়া, মালি, মিয়ানমার, নাইজার, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেন। এছাড়া ফিলিস্তিনি ভ্রমণ নথি ধারকরাও নিষিদ্ধ।

আংশিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছে—অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বেনিন, বুরুন্ডি, কিউবা, ডমিনিকা, গ্যাবন, গাম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তানজানিয়া, টোগো, টোঙ্গা, তুর্কমেনিস্তান, ভেনেজুয়েলা, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।

বিশেষভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা নিষেধাজ্ঞার তালিকার ২৬টি দেশ আফ্রিকার। ট্রাম্প প্রশাসন আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্যে আগের অগ্রাধিকারমূলক ‘আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট’ থেকে সরে এসে শুল্কভিত্তিক নীতি অনুসরণ করছে। এছাড়া ২০২৫ সালে ইউএসএআইডির তহবিল কমানো এবং সন্ত্রাসবিরোধী বিমান হামলা আফ্রিকার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে।

জুয়েল/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত