ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ পৌষ ১৪৩২

বই উৎসবে বৈষম্য: প্রাথমিকে হাসি ফুটলেও মাধ্যমিকে বিষাদ

২০২৬ জানুয়ারি ০১ ১৪:৩১:১১

বই উৎসবে বৈষম্য: প্রাথমিকে হাসি ফুটলেও মাধ্যমিকে বিষাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ ১ জানুয়ারি থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। এ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে নতুন বই বিতরণ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন, যদিও মাধ্যমিক স্কুলের কিছু শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখনও বই পাননি।

রাজধানীর একাধিক স্কুলে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা অভিভাবক ও সহপাঠীদের সঙ্গে এসে নতুন বই হাতে নিচ্ছেন। এ সময় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে আনন্দ ও উৎফুল্লতার ছাপ স্পষ্ট দেখা গেছে।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া প্রাথমিক সরকারি স্কুলের এক অভিভাবক ডুয়া নিউজকে বলেন, “আমার দুই মেয়ে এই স্কুলে পড়ে। একজন ক্লাস ফাইভ আর একজন ক্লাস ওয়ানে। তারা আজ নতুন বই পেয়েছে। বই পেয়ে তাদের আনন্দের সঙ্গে আমারও খুশি হয়েছে।”

স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেছে, “নতুন বই পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এবার আমার রোল ৩২ থেকে ৪৩ হয়েছে। তাই এবার আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করব।”

রাজধানীর মতো দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় জানিয়েছে, উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বই বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম শ্রেণির বাংলা, গণিত ও ইংরেজির মোট ৫ হাজার ৬৪৩টি বই বিতরণ করা হয়েছে, দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য একই তিন বিষয়ের বই ৫ হাজার ৫৫০টি।

তবে মাধ্যমিক স্তরের কিছু শ্রেণির বই এখনও বিতরণ হয়নি। বিশেষ করে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই অনেক স্কুলে পৌঁছায়নি। এছাড়া ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির জন্যও বই পৌঁছেছে খুবই সীমিত।

মঠখোলা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, “ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণি ছাড়া অন্য কোনো শ্রেণির বই আমাদের এখানে এখনও আসেনি। বই আসলে আমরা ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীদের হাতে বিতরণ করব।”

সিইউএফএল স্কুল এন্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী পিয়াস বলেন, “নতুন বছরের প্রথম দিনে সবাই নতুন বই পাওয়ার কথা। কিন্তু আমরা এখনো বই ছাড়াই ক্লাস করছি। শিক্ষকরা বোর্ডে লিখে পড়াচ্ছেন, তবে বাসায় পড়া কঠিন।”

পরৈকোড়া নয়নতারা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রাফি জানিয়েছেন, “প্রাথমিকের ছোট ভাইবোনেরা বই পেয়েছে, কিন্তু আমরা পাইনি। পরীক্ষার সিলেবাস শেষ করা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”

আনোয়ারা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণি ছাড়া অন্য কোনো শ্রেণির বই এখনও পাইনি। বই আসলে আমরা সব শিক্ষার্থীকে বইয়ের আওতায় আনতে পারব।”

এর আগে, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে সরকার বছরের শুরু হওয়ার আগেই বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যবইয়ের অনলাইন ভার্সন চালুর কথা জানিয়েছিল। ২৮ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ওয়েবসাইট (www.nctb.gov.bd) থেকে শিক্ষার্থীরা নতুন পাঠ্যবই অনলাইনে দেখতে ও ডাউনলোড করতে পারছেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত