ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

ভাষা ও কারিগরি শিক্ষায় বাংলাদেশ-চীন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ২০:২৬:৫৩

ভাষা ও কারিগরি শিক্ষায় বাংলাদেশ-চীন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষা, প্রযুক্তি ও ভাষা প্রশিক্ষণে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন এবং শিক্ষা বিনিময় কার্যক্রম সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, দেশে চীনা ভাষা শিক্ষার পরিধি বাড়াতে ইতোমধ্যে কয়েকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন–এর যৌথ উদ্যোগ। চলতি বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এও এ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা শিক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে পরিচালিত প্রায় এক হাজার চীনা প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতামূলক দক্ষতা অর্জনে এ উদ্যোগ সহায়ক হবে। ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বিশ্বের অন্তত ১৭টি দেশে কাজের সুযোগ পেতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।

কারিগরি ও পলিটেকনিক শিক্ষার উন্নয়ন নিয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসমূহ পরিদর্শন করবে এবং কারিকুলাম আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শিল্প খাতের চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কাঠামো উন্নয়নে কাজ করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কোর্স ও প্রশিক্ষণ পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চীনা ভাষা শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০টি স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দুটি করে শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের মাধ্যমে ১৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৯টি ব্রডকাস্টিং সেন্টার স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট ল্যাবসমূহে আধুনিক সফটওয়্যার-হার্ডওয়্যার সরবরাহের কথাও ওঠে। ইতোমধ্যে একটি পাইলট প্রকল্প চালু আছে।

চীনা পক্ষ জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকা, কম্বোডিয়া ও লাওসসহ বিভিন্ন দেশে তারা ভাষা ও কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং বাংলাদেশেও একই ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য একটি আধুনিক আবাসিক হল নির্মাণে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। আগামী পাঁচ বছরের প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা চীনা পক্ষের সঙ্গে শেয়ার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলকে চীনে স্টাডি ট্যুরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে তারা সেখানকার কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করতে পারেন। একই সঙ্গে চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এসে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নে সুপারিশ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে চীনা পক্ষ যৌথভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা ও চাহিদাপত্র পাঠাবে বলে জানানো হয়েছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত