ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ পৌষ ১৪৩২

পাবলিক প্লেসে ধূমপানে জরিমানা ২ হাজার টাকা

২০২৬ জানুয়ারি ০১ ১৩:১৯:৩৩

পাবলিক প্লেসে ধূমপানে জরিমানা ২ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও কঠোর ও যুগোপযোগী করতে প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাষ্ট্রপতির সম্মতি সাপেক্ষে এই অধ্যাদেশ কার্যকর হয়েছে।

সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, পাবলিক প্লেসে ধূমপান করলে জরিমানার পরিমাণ ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রেও শাস্তি আরও বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য হলো তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া। পাশাপাশি বিড়ি উৎপাদনসংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একীভূত আইন প্রণয়ন এবং ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।

অধ্যাদেশের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ও সংযোজন

তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞা সম্প্রসারণ: ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (HTP), নিকোটিন পাউচসহ সব উদীয়মান পণ্যকে তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকার প্রয়োজনে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন কোনো পণ্যকেও তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। একই সঙ্গে ‘নিকোটিন’, ‘নিকোটিন দ্রব্য’ ও ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।

পাবলিক প্লেসে নিষেধাজ্ঞা: সব পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘনে জরিমানা সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা বন্ধ: প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিক্রয়কেন্দ্রে প্যাকেট প্রদর্শন, প্রচারণা, সিএসআর কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে তাদের আর্থিক সহায়তাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সংবেদনশীল এলাকায় বিক্রয় নিষেধ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ই-সিগারেট ও উদীয়মান তামাকপণ্য নিষিদ্ধ: ই-সিগারেটসহ সব ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

বিড়ি উৎপাদন সংক্রান্ত পরিবর্তন: কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ির উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত পৃথক Bidi Manufacture (Prohibition) Ordinance, 1975 বাতিল করা হয়েছে।

আসক্তিমূলক দ্রব্য মিশ্রণ নিষিদ্ধ: তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর বা আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা বাধ্যতামূলক: তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের অন্তত ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন ছবি ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সংবলিত স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শাস্তি ও প্রয়োগ জোরদার: জরিমানা ও কারাদণ্ডের মাত্রা বাড়ানো হয়েছে। কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল, মালামাল জব্দ এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত