ঢাকা, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩
চূড়ান্ত প্রতিবেদন: বিডিআর হ’ত্যাকাণ্ডে জড়িত আওয়ামী লীগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত বর্বরতম হত্যাযজ্ঞের অনুসন্ধান শেষে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন আজ প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান ও অন্যান্য সদস্যরা প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।
কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা হলেন: মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান বীর প্রতীক (অব.), মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ যুগ্মসচিব (অব.), ড. এম. আকবর আলী ডিআইজি (অব.), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জাতি দীর্ঘ সময় অন্ধকারে ছিল। কমিশন সত্য উদ্ঘাটনে যে ভূমিকা নিয়েছে, জাতি তা স্মরণ রাখবে। ইতিহাসের এই ভয়াবহ ঘটনা নিয়ে জাতির বহু প্রশ্ন ছিল, এই প্রতিবেদন সেই প্রশ্নের সমাধান হবে। শিক্ষণীয় অনেক বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা জাতির জন্য মূল্যবান সম্পদ হবে।”
কমিশন প্রধান ফজলুর রহমান বলেন, “তদন্ত সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত করার জন্য সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখা হয়েছে। ১৬ বছর আগের ঘটনায় অনেক আলামত ধ্বংস হয়েছে এবং অনেক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিদেশে চলে গেছেন। আমরা সাক্ষীদের ডাকেছি, কেউ কেউ ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কথা বলেছেন। তদন্তে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অন্যান্য উপাদানও সংগ্রহ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা জনমনে থাকা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছি। কারা কী ভূমিকা রেখেছিল, কেন সেনাবাহিনী অ্যাকশন নিল না—সব কিছু অনুসন্ধান করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া গেছে, বহিঃশক্তি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগেরও সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে।”
মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার জানান, “কমিশন এই ঘটনার বাহ্যিক ও প্রকৃত কারণ উন্মোচন করেছে। হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ছিল এবং এর পেছনে প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। স্থানীয় আওয়ামী লীগ জড়িতদের রক্ষা করতে পিলখানায় ঢুকে ও বের হওয়ার সময় মিছিলে শতাধিক মানুষ ছিল। পুরো ঘটনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।”
তিনি বলেন, “ঘটনার দায় তৎকালীন সরকার প্রধান থেকে সেনাপ্রধান পর্যন্ত। পুলিশ, র্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও তৎকালীন ব্যর্থতা রয়েছে। কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ভূমিকা ছিল অপেশাদার। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠক করা বিডিআর সদস্যদের নাম পরিচয় সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি।”
কমিশন তাদের প্রতিবেদনে সুপারিশ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে বাহিনীগুলোতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায় এবং ভিকটিমরা ন্যায় বিচার পান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ২য় ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের খেলা চলছে: ব্যাটিংয়ে টাইগাররা-দেখুন সরাসরি
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের রোমাঞ্চকর খেলাটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন শুরু
- ফের ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ
- শীর্ষ ১০ ইহুদিবিদ্বেষী প্রভাবশালীদের তালিকা প্রকাশ করল ইসরাইল
- সময় কমিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার নতুন সিদ্ধান্ত
- রেকর্ড মুনাফা করে ডিভিডেন্ডে চমক দেখাল ইস্টার্ন ব্যাংক
- কপার টি: নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
- এক মাসেও অফিস মেলেনি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের
- ঢাবির ক্ষণিকা বাস দু/র্ঘটনায় আ/হত ৮ শিক্ষার্থী
- ৮,০০০ টাকা করে বৃত্তি দেবে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট
- শিরীন সুলতানা ও নিলোফার মনিকে ঢাবি অ্যালামনাই’র অভিনন্দন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৯ এপ্রিল)