ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১৮ কিলোমিটার যানজট

২০২৬ জুন ০৬ ১১:৩৮:০৪

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১৮ কিলোমিটার যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ঢল ও একাধিক যানবাহন বিকল হয়ে পড়ার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যমুনা সেতু এলাকা ঘিরে প্রায় ১৮ কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানবাহনের সারিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত থেকে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে পৌলি পর্যন্ত এলাকায় এই যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঈদ-পরবর্তী সময়ে উত্তরবঙ্গ থেকে রাজধানীমুখী যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে যায়। এর মধ্যে যমুনা সেতু ও এর সংযোগ সড়কে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২০ থেকে ২৫টি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে। বিকল গাড়িগুলো সরিয়ে নিতে গিয়ে বারবার ব্যাহত হয় যান চলাচল, যা যানজট আরও তীব্র করে তোলে।

এদিকে শুক্রবার রাতে যমুনা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে একটি বাসের পেছনে আরেকটি বাস ধাক্কা দিলে একজন নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য সেতুতে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সিরাজগঞ্জ অংশের মহাসড়কে যান চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, যমুনা সেতুতে ২০ থেকে ২৫টি যানবাহন বিকল হওয়াই দীর্ঘ যানজটের প্রধান কারণ। বিকল গাড়িগুলোর বেশিরভাগই ছিল পুরোনো ও জরাজীর্ণ।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে মোট ৪০ হাজার ৫৮০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ১৪ লাখ ২৭ হাজার ২৫০ টাকা।

এর মধ্যে উত্তরবঙ্গমুখী ১৫ হাজার ৪৪৮টি যানবাহন পারাপার করে, যেখান থেকে টোল আদায় হয় ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা। অন্যদিকে ঢাকামুখী ২৫ হাজার ১৩২টি যানবাহন থেকে আদায় হয় ১ কোটি ৭৮ লাখ ৬৮ হাজার ৪৫০ টাকা।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং সেতু ও সংযোগ সড়কে একাধিক গাড়ি বিকল হয়ে পড়ার কারণেই এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, সেতুর দুই পাশে ৯টি করে মোট ১৮টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা দুটি বুথ রাখা হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জুয়েল মিয়া বলেন, মহাসড়কে এখনও যানবাহনের চাপ রয়েছে। তবে দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত