ঢাকা, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

দেশে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি, বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

২০২৫ নভেম্বর ৩০ ০০:৫৫:৫০

দেশে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি, বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

সরকার ফারাবী: গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার নিচে থাকা ‘মেগাথার্স্ট’ ফল্ট থেকে সম্ভাব্য ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বাংলাদেশ একটি বড় ভূমিকম্পের মুখোমুখি হতে পারে যার প্রভাব হতে পারে ভয়াবহ।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘আর্থকুয়েক অ্যাওয়ারনেস, সেফটি প্রটোকল অ্যান্ড ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস’ শীর্ষক সেমিনারে এসব আশঙ্কার কথা উঠে আসে। আয়োজনে ছিল জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড। সেমিনারে অংশ নেন দেশের ও বিদেশের ভূমিকম্পবিদ, স্থপতি, প্রকৌশলী, নীতিনির্ধারকসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি।

মেগাথার্স্ট ফল্টের বিপজ্জনক সতর্কবার্তা

বক্তারা সেমিনারে উল্লেখ করেন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় থাকা বিশাল ‘মেগাথার্স্ট’ ফল্ট থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত সাবডাকশন জোনে বিগত ৮০০–১০০০ বছরের জমে থাকা শক্তি এখনও মুক্ত হয়নি, যা একটি বড় বিপদের পূর্বাভাস।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০০ বছরে বাংলাদেশে ২০০টিরও বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো ২০২৪ সালের পর থেকে ভূকম্পনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বাংলাদেশ তিনটি সক্রিয় ফল্টলাইনে অবস্থান করছে

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভারত, মিয়ানমার এবং ইউরেশীয় এই তিন সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

সিলেটের ডাউকি ফল্ট,

চট্টগ্রাম–টেকনাফের চিটাগং–আরাকান ফল্ট,

এবং মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট

বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকির অঞ্চলে পরিণত করেছে।

এ ছাড়া দ্রুত নগরায়ণ, ঘনবসতি, বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন, সংকীর্ণ সড়ক সবকিছুই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

সঠিক প্রস্তুতি থাকলে ক্ষতি কমানো সম্ভব

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন সময়মতো যথাযথ প্রস্তুতি, জনসচেতনতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার থাকলে বড় ধরনের ভূমিকম্পেও ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এখনই উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

জাপানের ভূমিকম্প–সহনশীল স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ কেসিরো সাকো ও হেসাইয়ে সুগিয়ামা তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তারা ভূমিকম্প–পরবর্তী জাপানের শিক্ষা, নিরাপদ ভবন ডিজাইন এবং আধুনিক টেকসই নির্মাণমান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন।

ভূমিকম্প প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশকে ভূমিকম্প–সহনশীল করতে তিন স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে রাষ্ট্র, আবাসন খাত ও জনগণ। প্রয়োজন-

ভূমিকম্প–প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ,

পুরোনো ভবনের স্ট্রাকচারাল অডিট,

কাজের মান কঠোর তদারকি,

উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধি,

এবং কার্যকর প্রাথমিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা।

এ ছাড়া নিয়মিত ড্রিল, সচেতনতা কার্যক্রম এবং পরিবারভিত্তিক প্রস্তুতির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জেসিএক্স এমডির বক্তব্য

স্বাগত বক্তব্যে জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টসের এমডি মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন ঢাকায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলো দেশের ঝুঁকি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা ঘনত্ব এবং দুর্বল ভবন কাঠামোর কারণে বড় ভূমিকম্প হলে বিপর্যয় ভয়াবহ হবে। তিনটি স্তম্ভ রাষ্ট্র, আবাসন খাত ও জনগণ মিলেই এ ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব।

অন্য বক্তারা

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন: ড. এম শামীম জেড বসুনিয়া, ড. সৈয়দ ফখরুল আমিন (বুয়েট), রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদুজ্জামান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী, রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল হোসেন চৌধুরী রিজভী, ড. রাকিব আহসান (বুয়েট), বাজুস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান, বিএমইডি পরিচালক মমিনুল ইসলাম, স্থপতি আরিফুল ইসলাম, স্থপতি রফিক আজম, ভিস্তারার এমডি মুস্তফা খালিদ পলাশ।

ট্যাগ: ভূমিকম্প দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশ ভূমিকম্প Earthquake Warning ভূমিকম্প সতর্কতা Earthquake Bangladesh earthquake ভূমিকম্প প্রস্তুতি Earthquake preparedness বিল্ডিং কোড বাংলাদেশ Dawki Fault seismic safety মেগাথার্স্ট ফল্ট গঙ্গা ব্রহ্মপুত্র ভূমিকম্প ঢাকার ভূমিকম্প ঝুঁকি সিলেট ডাউকি ফল্ট চিটাগং আরাকান ফল্ট মিয়ানমার সাগাইং ফল্ট ভূমিকম্প সচেতনতা স্ট্রাকচারাল অডিট ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ সাবডাকশন জোন টেকটোনিক প্লেট বাংলাদেশ ভূমিকম্প সেমিনার ভূমিকম্প নিরাপত্তা জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস ওয়েস্টিন ঢাকায় সেমিনার বুয়েট প্রকৌশলী নিরাপদ ভবন নির্মাণ ঢাকার ঝুঁকি মানচিত্র ভূমিকম্প প্রতিরোধ জরুরি প্রস্তুতি বাংলাদেশ Megathrust fault Ganga Brahmaputra basin quake Dhaka earthquake risk Chittagong Arakan fault Sagaing fault Myanmar earthquake awareness building code Bangladesh structural audit disaster management seismic experts Bangladesh subduction zone tectonic plates Bangladesh earthquake seminar JCX Developments Westin Dhaka event BUET engineers earthquake-resistant buildings Dhaka risk map earthquake prevention emergency preparedness Bangladesh

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত