ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

জামায়াতের মঞ্চে লাল-সবুজ ডিজাইনে তীব্র ক্ষোভ

২০২৫ নভেম্বর ২৮ ১৬:৪০:৪৪


জামায়াতের মঞ্চে লাল-সবুজ ডিজাইনে তীব্র ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার ভাষানটেক এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর একটি সমাবেশকে ঘিরে ব্যবহৃত মঞ্চের লাল-সবুজ নকশা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। শুক্রবার ঢাকা-১৭ আসনের উদ্যোগে আয়োজিত যুব-ছাত্র ও নাগরিক সমাবেশের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই অনলাইনে নিন্দা ও প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠেছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, সমাবেশের সিঁড়ি ও কার্পেটের ডিজাইনে লাল-সবুজ রঙ ব্যবহার করাকে তারা স্বাধীনতার রক্তে রঞ্জিত জাতীয় পতাকার প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, শহীদদের আত্মত্যাগ আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক এ পতাকাকে পায়ের নিচে ব্যবহার করা ন্যূনতম সম্মানের ধারনাকে ভঙ্গ করেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, দেশের পতাকা জাতীয় অহংকার এটি জাতির আত্মমর্যাদা ও ইতিহাসের শক্তিশালী প্রতীক, যার প্রতি অশ্রদ্ধা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা খর্ব করার চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, ডিজাইনে পাকিস্তানি সবুজের মতো রঙ ব্যবহার করে সেটিকে লাল-সবুজের ওপরে ছাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা অপপ্রয়াস এবং শহীদদের স্মৃতিকে অপমান করার সমতুল্য।

অন্যদিকে কিছু মানুষ মনে করছেন, এটি ছিল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা ডিজাইনের একটি ভুল সিদ্ধান্ত, যা সমালোচনার পর দ্রুত সংশোধন করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের বক্তব্য, কেবল রঙ ঢেকে দেওয়া যথেষ্ট নয় এ ধরনের ডিজাইন জাতীয় মর্যাদা ও চেতনার প্রতি অবহেলা প্রকাশ করে, আর এ নিয়ে দায় এড়ানো যাবে না।

এ ঘটনাকে ঘিরে রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। ঢাকা–১৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক লিখেছেন, জাতীয় পতাকার মর্যাদা নিয়ে আপস করা দেশপ্রেমিক কোনো নাগরিকের পক্ষেই সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সংঘবদ্ধভাবে জাতীয় পরিচয়কে দুর্বল করার যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, জনগণ তা কখনো মেনে নেবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আবুল বাশার নামের একজন লিখেছেন, ‘চারুকলার ছাত্র হিসেবে বলতে পারি, যারা এ ডিজাইন করেছেন, তাদের রঙ চেনারও ন্যূনতম জ্ঞান নেই। বিশেষ অতিথিদের জন্য লাল গালিচা দিতে চাইলেই পারতেন, কিন্তু কেন জাতীয় রঙে এমন অপমানজনক কম্বিনেশন?’

সবশেষে বিতর্কের মধ্যে একটি প্রশ্নই জোরালো হয়ে উঠেছে এটি কি পরিকল্পিত অবমাননা, নাকি অজ্ঞতার ফল? অনেকে দাবি করছেন, যারা জাতীয় প্রতীক নিয়ে এমন বিতর্ক তৈরি করেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উচিৎ তাদের দলে এমন ব্যক্তিদের স্থান না দেওয়া।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত