ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
জামায়াতের মঞ্চে লাল-সবুজ ডিজাইনে তীব্র ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার ভাষানটেক এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর একটি সমাবেশকে ঘিরে ব্যবহৃত মঞ্চের লাল-সবুজ নকশা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। শুক্রবার ঢাকা-১৭ আসনের উদ্যোগে আয়োজিত যুব-ছাত্র ও নাগরিক সমাবেশের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই অনলাইনে নিন্দা ও প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠেছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, সমাবেশের সিঁড়ি ও কার্পেটের ডিজাইনে লাল-সবুজ রঙ ব্যবহার করাকে তারা স্বাধীনতার রক্তে রঞ্জিত জাতীয় পতাকার প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, শহীদদের আত্মত্যাগ আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক এ পতাকাকে পায়ের নিচে ব্যবহার করা ন্যূনতম সম্মানের ধারনাকে ভঙ্গ করেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, দেশের পতাকা জাতীয় অহংকার এটি জাতির আত্মমর্যাদা ও ইতিহাসের শক্তিশালী প্রতীক, যার প্রতি অশ্রদ্ধা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা খর্ব করার চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, ডিজাইনে পাকিস্তানি সবুজের মতো রঙ ব্যবহার করে সেটিকে লাল-সবুজের ওপরে ছাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা অপপ্রয়াস এবং শহীদদের স্মৃতিকে অপমান করার সমতুল্য।
অন্যদিকে কিছু মানুষ মনে করছেন, এটি ছিল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা ডিজাইনের একটি ভুল সিদ্ধান্ত, যা সমালোচনার পর দ্রুত সংশোধন করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের বক্তব্য, কেবল রঙ ঢেকে দেওয়া যথেষ্ট নয় এ ধরনের ডিজাইন জাতীয় মর্যাদা ও চেতনার প্রতি অবহেলা প্রকাশ করে, আর এ নিয়ে দায় এড়ানো যাবে না।
এ ঘটনাকে ঘিরে রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। ঢাকা–১৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক লিখেছেন, জাতীয় পতাকার মর্যাদা নিয়ে আপস করা দেশপ্রেমিক কোনো নাগরিকের পক্ষেই সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সংঘবদ্ধভাবে জাতীয় পরিচয়কে দুর্বল করার যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, জনগণ তা কখনো মেনে নেবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আবুল বাশার নামের একজন লিখেছেন, ‘চারুকলার ছাত্র হিসেবে বলতে পারি, যারা এ ডিজাইন করেছেন, তাদের রঙ চেনারও ন্যূনতম জ্ঞান নেই। বিশেষ অতিথিদের জন্য লাল গালিচা দিতে চাইলেই পারতেন, কিন্তু কেন জাতীয় রঙে এমন অপমানজনক কম্বিনেশন?’
সবশেষে বিতর্কের মধ্যে একটি প্রশ্নই জোরালো হয়ে উঠেছে এটি কি পরিকল্পিত অবমাননা, নাকি অজ্ঞতার ফল? অনেকে দাবি করছেন, যারা জাতীয় প্রতীক নিয়ে এমন বিতর্ক তৈরি করেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উচিৎ তাদের দলে এমন ব্যক্তিদের স্থান না দেওয়া।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- ১১-২০ গ্রেডের চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ছে
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাইভার তারিখ প্রকাশ
- নতুন পে-স্কেলে মোবাইল ভাতা পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা, কোন গ্রেডে কত?
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ সেপ্টেম্বর)
- বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ৬১৮ প্রভাষকের চাকরি স্থায়ীকরণ
- নারী এশিয়া কাপ সেমিফাইনাল: কবে, কখন কোন দলের ম্যাচ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ সেপ্টেম্বর)