ঢাকা, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে: গভর্নর
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সম্মেলন চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে বুধবার তিনি এ তথ্য জানান।
গভর্নর ড. মনসুর বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় গঠিত স্টার গ্রুপ গত বছর থেকেই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে। স্টার গ্রুপের প্রধান কর্মকর্তাসহ তাদের প্রতিনিধিরা গত এক বছরে পাঁচ-ছয়বার ঢাকায় এসেছেন এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন। তিনি স্বীকার করেন যে এত বড় পরিসরে বিদেশ থেকে অর্থ উদ্ধারের অভিজ্ঞতা আগে না থাকায় নিজেদের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।
ড. মনসুর জানান, সরকার এরই মধ্যে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে একটি জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করেছে। এই টিম বারোটি মামলার ভিত্তিতে তদন্ত করছে, যেখানে দুদক এবং সিআইডির মতো সংস্থাগুলোকে একটি সমন্বিত কো-অর্ডিনেশন টিমে আনা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনের কাজ শেষ পর্যায়ে, যাতে দেশি-বিদেশি আদালতে এগুলো উপস্থাপন করা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া জোরদারে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন সংস্থাকে দেশের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে যুক্ত করেছে। এসব সংস্থা সংশ্লিষ্ট বিদেশি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে, যেখানে পাচার হওয়া অর্থ জমা রয়েছে। গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলোকে এসব আইন সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে বলা হয়েছে। যদি তারা সফলভাবে টাকা উদ্ধার করতে পারে, তবে পুনরুদ্ধারকৃত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ—যেমন ২০ শতাংশ—তাদের ফি হিসেবে রাখা হতে পারে, বাকি অংশ ফেরত আসবে বাংলাদেশে।
উদাহরণ হিসেবে ড. মনসুর সাইফুজ্জামানের লন্ডনে থাকা ৩৫০টি বাড়ির কথা উল্লেখ করেন, যার মধ্যে কয়েকটি এরই মধ্যে নিলাম প্রক্রিয়ায় গেছে। ইউসিবিএল ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী সরবরাহ করা হয়েছে, যারা লন্ডনে সফলভাবে দাবি (claim) দাখিল করেছেন। অকশন শেষে মর্টগেজ বাদ দিয়ে বাকি অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আসবে। তিনি জানান, এই প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি ধীরে হলেও তা বাস্তবসম্মত। লন্ডনে এখনো অনেক সম্পদ আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। একবার সফলভাবে নিষ্পত্তি হলে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সিঙ্গাপুর, দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতা চুক্তির (Mutual Legal Assistance Treaty) আওতায় অন্য দেশে থাকা সম্পদ উদ্ধারের পথও খুলে যাবে।
পাচার অর্থ উদ্ধারের অগ্রগতি নিয়ে সমালোচনার জবাবে ড. মনসুর বলেন, "এটি একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। অনেক দেশে এমন মামলার নিষ্পত্তিতে ১০-১২ বছর লেগেছে। আমরা এক বছরেই অনেক দূর এগিয়েছি, তাই অধৈর্য হওয়ার কিছু নেই।" তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "আমাদের লক্ষ্য ব্যাংকিং খাতকে টেকসইভাবে স্থিতিশীল করা। অর্থ ফেরত এলে সেটি হবে আমাদের জন্য ‘আইসিং অন দ্য কেক’।"
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম চীনের ফুটবল ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- শেষ হলো বাংলাদেশ বনাম উত্তর কোরিয়ার ফুটবল ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- বাংলাদেশ বনাম চীনের ফুটবল ম্যাচ: কবে, কখন, কোথায়-জানুন সময়সূচি
- উৎপাদন বন্ধ থাকায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামল তালিকাভুক্ত কোম্পানি
- বাংলাদেশ বনাম চীন ফুটবল ম্যাচ: জেনে নিন ফলাফল
- জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করল সরকার
- ডুসাসের নেতৃত্বে জিসান-সাবরিন
- বিক্রিতে ধস, অথচ শেয়ার দরে উল্লম্ফন: জি কিউ বলপেনের রহস্য কী?
- ইরানে স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০৮
- শিক্ষকরা ফেব্রুয়ারির বেতন বেতন পাবেন কবে, জানাল মাউশি
- মারা যাওয়ার আগে কী বার্তা দিলেন জাহের আলভীর স্ত্রী?
- একই কক্ষপথে যাত্রা, এক বছর পর তিন মেরুতে তিন কোম্পানি
- আতঙ্ক কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই, সূচকের বড় লাফ
- দুবাই বিমানবন্দরে আটকা অভিনেত্রী, মোদির কাছে বাঁচার আকুতি
- ২৭ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের বিধ্বংসী হামলা