ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বিক্ষোভকারীদের পাশে সেনাবাহিনী, নতুন রাজনৈতিক সংকটে মাদাগাস্কার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মাদাগাস্কারে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই সেনাবাহিনীর কয়েকটি ইউনিট সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে। রাজধানী আন্টানানারিভোতে বিক্ষোভকারীদের দমন করতে সরকারের নির্দেশ অমান্য করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
শনিবার (১১ অক্টোবর) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সৈন্যরা জানিয়েছেন—তারা নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলবেন না।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন পূর্ণমাত্রায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। শনিবার রাজধানীতে জেন জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পুলিশ যখন বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে, তখন সেনারা শহরের কেন্দ্রস্থলে আনোসি হ্রদের কাছে হাজির হন। তাদের উপস্থিতিতে বিক্ষোভকারীরা করতালিতে স্বাগত জানান এবং মাদাগাস্কারের পতাকা নাড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করেন সেনারা।
এর আগে সোয়ানিরানা সামরিক ঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সেনারা ঘোষণা দেন—তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো দমন অভিযান চালাবেন না। পরে এক ভিডিও বার্তায় সৈন্যরা বলেন, “আমরা আমাদের ভাই-বোনদের ওপর গুলি চালাব না। যারা আমাদের সহযোদ্ধাদের হত্যার নির্দেশ দেয়, তাদের বিরুদ্ধেই অস্ত্র ধরব।”
ভিডিওতে আরও আহ্বান জানানো হয় বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটির সৈন্যদের প্রতি, যেন তারা ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশ উপেক্ষা করে জনগণের পাশে দাঁড়ান। সেনাদের দাবি, “আমরা মারা গেলে কেউ আমাদের পরিবারের দায়িত্ব নেয় না; তাই অন্যায় আদেশ মানা যাবে না।”
বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ও সাঁজোয়া গাড়ির হামলায় অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে এএফপি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতার একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘও দেশটিতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা বিক্ষোভে ২২ জন নিহতের তথ্য অস্বীকার করে বলেন, নিহতদের মধ্যে ১২ জন “দাঙ্গাবাজ ও লুটেরা।” তিনি সাম্প্রতিক সহিংসতার পর পুরো মন্ত্রিসভা বরখাস্ত করে নতুন সরকার গঠন করেছেন, যেখানে সেনা-পুলিশ কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।
দারিদ্র্যপীড়িত দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কার স্বাধীনতার পর থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত। ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীর সহায়তায় রাজোয়েলিনা ক্ষমতায় আসেন। সেই সোয়ানিরানা ঘাঁটিই এবার আবারও বিক্ষোভের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে—যা দেশটিতে নতুন এক সামরিক ও রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এমজে
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ম্যাচ: সরাসরি দেখা যাবে এখানে LIVE
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ফুটবল ম্যাচ, দেখুন একাদশ-দেখার উপায়
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোর ম্যাচটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- ঢাবি শিক্ষককে বিয়ে করলেন দীপ্তি চৌধুরী
- বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের ফুটবল ম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন এখানে
- আজ বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখবেন যেভাবে
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- ঢাবির এসএম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুস সালাম
- মাসিক ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম
- টাইমস হায়ার ও কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ঢাবির জয়জয়কার
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব