ঢাকা, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
বিক্ষোভকারীদের পাশে সেনাবাহিনী, নতুন রাজনৈতিক সংকটে মাদাগাস্কার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মাদাগাস্কারে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই সেনাবাহিনীর কয়েকটি ইউনিট সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে। রাজধানী আন্টানানারিভোতে বিক্ষোভকারীদের দমন করতে সরকারের নির্দেশ অমান্য করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
শনিবার (১১ অক্টোবর) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সৈন্যরা জানিয়েছেন—তারা নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলবেন না।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন পূর্ণমাত্রায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। শনিবার রাজধানীতে জেন জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পুলিশ যখন বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে, তখন সেনারা শহরের কেন্দ্রস্থলে আনোসি হ্রদের কাছে হাজির হন। তাদের উপস্থিতিতে বিক্ষোভকারীরা করতালিতে স্বাগত জানান এবং মাদাগাস্কারের পতাকা নাড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করেন সেনারা।
এর আগে সোয়ানিরানা সামরিক ঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সেনারা ঘোষণা দেন—তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো দমন অভিযান চালাবেন না। পরে এক ভিডিও বার্তায় সৈন্যরা বলেন, “আমরা আমাদের ভাই-বোনদের ওপর গুলি চালাব না। যারা আমাদের সহযোদ্ধাদের হত্যার নির্দেশ দেয়, তাদের বিরুদ্ধেই অস্ত্র ধরব।”
ভিডিওতে আরও আহ্বান জানানো হয় বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটির সৈন্যদের প্রতি, যেন তারা ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশ উপেক্ষা করে জনগণের পাশে দাঁড়ান। সেনাদের দাবি, “আমরা মারা গেলে কেউ আমাদের পরিবারের দায়িত্ব নেয় না; তাই অন্যায় আদেশ মানা যাবে না।”
বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ও সাঁজোয়া গাড়ির হামলায় অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে এএফপি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতার একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘও দেশটিতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা বিক্ষোভে ২২ জন নিহতের তথ্য অস্বীকার করে বলেন, নিহতদের মধ্যে ১২ জন “দাঙ্গাবাজ ও লুটেরা।” তিনি সাম্প্রতিক সহিংসতার পর পুরো মন্ত্রিসভা বরখাস্ত করে নতুন সরকার গঠন করেছেন, যেখানে সেনা-পুলিশ কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।
দারিদ্র্যপীড়িত দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কার স্বাধীনতার পর থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত। ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীর সহায়তায় রাজোয়েলিনা ক্ষমতায় আসেন। সেই সোয়ানিরানা ঘাঁটিই এবার আবারও বিক্ষোভের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে—যা দেশটিতে নতুন এক সামরিক ও রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এমজে
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- BANZI নির্বাচন: জয়-পরাজয়ের বাইরে কমিউনিটির আমানত ও প্রত্যাশা
- প্রজ্ঞাপনের আগে পে স্কেলের বেতন তালিকা
- পে স্কেল নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিল অর্থ মন্ত্রণালয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল আজ
- সাত কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফরম পূরণ স্থগিত
- জেনে নিন একাদশ-আলিমে ভর্তির আবেদন পদ্ধতি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩ সেপ্টেম্বর)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ রিলিজ স্লিপের ফল প্রকাশ
- দুর্নীতিবাজ-সন্ত্রাসীদের দলে জায়গা হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- জুলাই থেকেই কার্যকর নতুন পে স্কেল, বকেয়া পাবেন যেভাবে
- হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে ৪৩ জনের চাকরির সুযোগ
- ঢাবিসহ ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ
- ফের কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ৭১১৫ টাকা
- আজ ঢাকায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং, কোন এলাকায় কত
- এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর