ঢাকা, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২
রেমিট্যান্সের দৌড়ে দক্ষিণ এশিয়ায় আবার প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ে এক নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা গেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে আবার ফিরিয়ে এনেছে। যদিও গত বছর বাংলাদেশ শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) মতে, একই সময়ে পাকিস্তান এবং নেপাল আরও বেশি প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।
এডিবি’র 'Key Indicators for Asia and the Pacific 2025' শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর নেপাল ৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ১৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স অর্জন করে, যা ছিল এই অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, পাকিস্তান ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পায়। একই সময়ে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত আছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেড়ে ১৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, এই রেমিট্যান্স বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ মাধ্যম 'হুন্ডি'-এর চাহিদা কমে যাওয়া। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অর্থ পাচারকারীরা ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ায় হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, ফলে অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের অর্থ আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে চলে এসেছে।
এই সময়ের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক কর্মী বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন, যা রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১১.৯৬ লাখ কর্মী বিদেশে গেছেন, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১১.৩৭ লাখের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ধারাবাহিক উন্নতির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ আগস্ট পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (BPM-6) আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেড়ে ২৬.১৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
জিডিপির তুলনায় রেমিট্যান্সের অবদানের দিক থেকে এই অঞ্চলের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে নেপাল, যেখানে রেমিট্যান্স তাদের জিডিপির ৩৩ শতাংশ। এর পরে রয়েছে পাকিস্তান (৯.৪ শতাংশ), আর বাংলাদেশের রেমিট্যান্স জিডিপির ৬ শতাংশ। ২০১০ সালে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স জিডিপির ৯.৪ শতাংশ ছিল, যা ২০২২ সালে কমে ৪.৭ শতাংশে নেমে আসে এবং গত বছর আবার ৬ শতাংশে ফিরে এসেছে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে শেয়ারবাজারের খান ব্রাদার্স
- বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে শেয়ারবাজারের ১১ কোম্পানিতে
- মূলধন ঘাটতিতে দুই ব্রোকারেজ হাউজ, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- চলতি বছর শেয়ারবাজারে আসছে রাষ্ট্রায়াত্ব দুই প্রতিষ্ঠান
- মার্জারের সাফল্যে উজ্জ্বল ফার কেমিক্যাল
- সাকিবের মোনার্কসহ ৮ ব্রোকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- তালিকাভুক্ত কোম্পানির ১৫ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা
- বিমা আইন সংস্কার: বিনিয়োগ ও আস্থায় নতুন দিগন্ত
- শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর প্রথম ‘নো ডিভিডেন্ড’
- শেয়ারবাজারে রেকর্ড: বছরের সর্বোচ্চ দামে ১৭ কোম্পানি
- তিন শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি, ডিএসইর সতর্কবার্তা
- ডেনিম উৎপাদন বাড়াতে এভিন্স টেক্সটাইলসের বড় পরিকল্পনা
- চলতি সপ্তাহে ঘোষণা আসছে ৫ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- ব্যাখ্যা শুনতে ডাকা হচ্ছে শেয়ারবাজারের পাঁচ ব্যাংককে
- ব্যাংকিং খাতে এমডিদের পদত্যাগের ঢেউ: সুশাসনের সংকট স্পষ্ট