ঢাকা, রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২
মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ জরুরি, পরামর্শ গবেষকদের
.jpg)
কিশোর বয়সে সন্তানদের অবসাদের ঝুঁকির পেছনে একটি নির্দিষ্ট অভ্যাসকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, আর তা হলো সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানো। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় এই সাধারণ অভ্যাসকে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বিষণ্ণতা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও পড়াশোনার চাপ, কটাক্ষ বা হরমোনের তারতম্যের মতো আরও কিছু কারণেও ছোটদের মধ্যে অবসাদ দেখা দিতে পারে, তবে গবেষকরা বলছেন যে, সামাজিক মাধ্যমের প্রভাবের ওপর অনেক সময়ই গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
প্রায়শই অভিভাবকরা সন্তানের অবসাদের মূল কারণ বুঝতে পারেন না। কৈশোরে পা দেওয়ার আগেই ছোটদের মনে নানা ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে, আর এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানে অনেক সময়ই ব্যর্থ হন অভিভাবকরা।
সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার পেডিয়াট্রিকস বিভাগের একদল গবেষক ছোটদের অবসাদ নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন। ‘জামা নেটওয়ার্ক’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, কৈশোরে পা দেওয়ার আগের বছরগুলোতে সামাজিক মাধ্যমই ছোটদের অবসাদের জন্য দায়ী।
গবেষকরা জানতে চেয়েছিলেন যে, সামাজিক মাধ্যমের কারণেই কি ছোটরা অবসাদে আক্রান্ত হচ্ছে, নাকি অবসাদে আক্রান্তরা বেশি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করছে। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তারা তিন বছর ধরে ১২ হাজার ছেলেমেয়ের ওপর গবেষণা চালিয়েছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করার কারণেই অনেক কিশোর অবসাদে আক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু অবসাদে আক্রান্ত হওয়ার পর তারা বেশি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করেনি। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বছরে যে কিশোররা দিনে ৭ মিনিট সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করত, দ্বিতীয় বছরে তা বেড়ে ৭৩ মিনিটে দাঁড়িয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এর ফলে ছোটদের অবসাদের ঝুঁকি ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অধ্যাপক জেসন নাগাটা বলেন, "আমরা জানতে পেরেছি যে, কৈশোরের প্রাক্কালে সামাজিক মাধ্যমের ক্রমাগত ব্যবহার ছোটদের অবসাদের অন্যতম প্রধান কারণ।"
এই প্রসঙ্গে ‘দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেল্থ’ জার্নালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণাপত্রে জানা গেছে, ১১ থেকে ১২ বছর বয়সী যেসব শিশু নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষের শিকার হয়েছে, তারা একজন সাধারণ শিশুর তুলনায় ২.৬২ শতাংশ বেশি আত্মহত্যাপ্রবণ মানসিকতার কথা প্রকাশ করেছে।
এ বিষয়ে ‘দ্য আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস’ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে। তারা বলেছেন, কৈশোরে প্রবেশের আগে ছোটদের মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা উচিত। এর জন্য বাবা-মায়েদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজনে বাবা-মায়েরাও বাড়িতে মোবাইলের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার করে শিশুদের শেখাতে পারেন। পাশাপাশি, ছোটদের সামাজিক মাধ্যমের নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে সতর্ক করা গেলে সমস্যার কিছুটা সমাধান হতে পারে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে শেয়ারবাজারের খান ব্রাদার্স
- দুই খবরে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারের চমক
- মূলধন ঘাটতিতে দুই ব্রোকারেজ হাউজ, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- চলতি বছর শেয়ারবাজারে আসছে রাষ্ট্রায়াত্ব দুই প্রতিষ্ঠান
- সাকিবের মোনার্কসহ ৮ ব্রোকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রতারণা, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করল ডিএসই
- বিএসইসির নতুন মার্জিন বিধিমালার খসড়া অনুমোদন
- বিমা আইন সংস্কার: বিনিয়োগ ও আস্থায় নতুন দিগন্ত
- তালিকাভুক্ত কোম্পানির ১৫ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা
- কোম্পানির অস্বাভাবিক শেয়ারদর: ডিএসইর সতর্কবার্তা
- মার্জারের সাফল্যে উজ্জ্বল ফার কেমিক্যাল
- তিন শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি, ডিএসইর সতর্কবার্তা
- শেয়ারবাজারে রেকর্ড: বছরের সর্বোচ্চ দামে ১৭ কোম্পানি
- শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর প্রথম ‘নো ডিভিডেন্ড’
- ব্যাখ্যা শুনতে ডাকা হচ্ছে শেয়ারবাজারের পাঁচ ব্যাংককে