ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ জরুরি, পরামর্শ গবেষকদের
কিশোর বয়সে সন্তানদের অবসাদের ঝুঁকির পেছনে একটি নির্দিষ্ট অভ্যাসকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, আর তা হলো সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানো। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় এই সাধারণ অভ্যাসকে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বিষণ্ণতা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও পড়াশোনার চাপ, কটাক্ষ বা হরমোনের তারতম্যের মতো আরও কিছু কারণেও ছোটদের মধ্যে অবসাদ দেখা দিতে পারে, তবে গবেষকরা বলছেন যে, সামাজিক মাধ্যমের প্রভাবের ওপর অনেক সময়ই গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
প্রায়শই অভিভাবকরা সন্তানের অবসাদের মূল কারণ বুঝতে পারেন না। কৈশোরে পা দেওয়ার আগেই ছোটদের মনে নানা ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে, আর এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানে অনেক সময়ই ব্যর্থ হন অভিভাবকরা।
সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার পেডিয়াট্রিকস বিভাগের একদল গবেষক ছোটদের অবসাদ নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন। ‘জামা নেটওয়ার্ক’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, কৈশোরে পা দেওয়ার আগের বছরগুলোতে সামাজিক মাধ্যমই ছোটদের অবসাদের জন্য দায়ী।
গবেষকরা জানতে চেয়েছিলেন যে, সামাজিক মাধ্যমের কারণেই কি ছোটরা অবসাদে আক্রান্ত হচ্ছে, নাকি অবসাদে আক্রান্তরা বেশি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করছে। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তারা তিন বছর ধরে ১২ হাজার ছেলেমেয়ের ওপর গবেষণা চালিয়েছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করার কারণেই অনেক কিশোর অবসাদে আক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু অবসাদে আক্রান্ত হওয়ার পর তারা বেশি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করেনি। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বছরে যে কিশোররা দিনে ৭ মিনিট সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করত, দ্বিতীয় বছরে তা বেড়ে ৭৩ মিনিটে দাঁড়িয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এর ফলে ছোটদের অবসাদের ঝুঁকি ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অধ্যাপক জেসন নাগাটা বলেন, "আমরা জানতে পেরেছি যে, কৈশোরের প্রাক্কালে সামাজিক মাধ্যমের ক্রমাগত ব্যবহার ছোটদের অবসাদের অন্যতম প্রধান কারণ।"
এই প্রসঙ্গে ‘দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেল্থ’ জার্নালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণাপত্রে জানা গেছে, ১১ থেকে ১২ বছর বয়সী যেসব শিশু নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষের শিকার হয়েছে, তারা একজন সাধারণ শিশুর তুলনায় ২.৬২ শতাংশ বেশি আত্মহত্যাপ্রবণ মানসিকতার কথা প্রকাশ করেছে।
এ বিষয়ে ‘দ্য আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস’ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে। তারা বলেছেন, কৈশোরে প্রবেশের আগে ছোটদের মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা উচিত। এর জন্য বাবা-মায়েদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজনে বাবা-মায়েরাও বাড়িতে মোবাইলের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার করে শিশুদের শেখাতে পারেন। পাশাপাশি, ছোটদের সামাজিক মাধ্যমের নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে সতর্ক করা গেলে সমস্যার কিছুটা সমাধান হতে পারে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ম্যাচ: সরাসরি দেখা যাবে এখানে LIVE
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ফুটবল ম্যাচ, দেখুন একাদশ-দেখার উপায়
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোর ম্যাচটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- সাফ নারী ফাইনাল: বাংলাদেশ বনাম ভারত, ৪ গোলে শেষ ম্যাচ, দেখুন ফলাফল
- ঢাবি শিক্ষককে বিয়ে করলেন দীপ্তি চৌধুরী
- বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের ফুটবল ম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন এখানে
- আজ বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখবেন যেভাবে
- ঢাবির এসএম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুস সালাম
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- বাংলাদেশে যেসব চ্যানেলে দেখা যাবে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব