ঢাকা, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২
শেয়ারবাজারে যেসব শেয়ারে ভরসা রাখছেন বিনিয়োগকারীরা

শেয়ারবাজারে কৌশলগত জ্ঞান ও সচেতনতার অভাবে অনেক বিনিয়োগকারী এখনও হুজুগ, গুজব কিংবা অন্যের পরামর্শে শেয়ার কেনাবেচা করেন। স্বল্পমেয়াদে লাভের আশায় করা এই বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ সময়ই লোকসানে গিয়ে ঠেকে। তাই এখন অনেক বিনিয়োগকারী নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে খুঁজছেন মৌলভিত্তিসম্পন্ন বা ফান্ডামেন্টাল কোম্পানিগুলোকে।
অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা মনে করেন, এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগে লাভ তুলনামূলক কম হলেও ঝুঁকি অনেকটাই সীমিত থাকে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, মৌলভিত্তিক কোম্পানির আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং নিয়মিত ডিভিডেন্ড বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।
গত কয়েক মাসে ব্যাংক, বিমা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ফার্মা ও রসায়ন, বস্ত্রখাতসহ আরও অন্যান্য খাতের মৌলভিত্তির শেয়ার কেনার প্রবণতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, রেনাটা, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, ম্যারিকো বাংলাদেশ, বার্জার পেইন্টসের মতো আকর্ষণীয় ডিভিডেন্ড দেওয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিনিয়োগকারীদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, যেখানে সুদের হার নেমেছে এবং মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে, সেখানে বিনিয়োগকারীরা নিয়মিত ডিভিডেন্ড প্রদানকারী এসব কোম্পানিকেই বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, মৌলভিত্তিক কোম্পানির শেয়ারদর ওঠানামা সীমিত এবং দীর্ঘমেয়াদে তা নিরাপদ বিনিয়োগ কৌশল হিসেবে কার্যকর।
অন্যদিকে, ‘জেড ক্যাটাগরি’র শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ক্রমেই কমছে। কারণ এসব কোম্পানি প্রায়ই ব্যবসা পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে পড়ে, ফলে বিনিয়োগ ঝুঁকি বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে জেড গ্রুপে শেয়ারের দরপতন ও ক্রেতাশূন্যতা এই চিত্র আরও স্পষ্ট করেছে। বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দর পতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা ১০টি কোম্পানির শেয়ারই জেড ক্যাটাগরির। বিনিয়োগকারীদের মতে, এসব শেয়ারে অর্থ ঢাললে পুরো মূলধন হারানোর ঝুঁকি থেকেই যায়। তবে কিছু কিছু কোম্পানির সময়মতো ডিভিডেন্ড বিতরণ না করার কারণে সাময়িকভাবে জেড ক্যাটাগরিতে স্থান নিয়েছে। ওইসব কোম্পানির বেলায় জেড ক্যাটাগরির বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ কার্যকর হবে না।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জেড ক্যাটাগরির কোম্পানি বেড়ে যাওয়াই লেনদেন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠান জেড গ্রুপে পড়লে ঋণ সুবিধা বন্ধ হয় এবং লেনদেন নিষ্পত্তির সময়ও বেড়ে যায়। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যায় এবং বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ১৫ বছরে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ১৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করেছে। কিন্তু বেশিরভাগই প্রত্যাশিত ফল দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। মুনাফার সক্ষমতা হারিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান জেড ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে। ফলে বাজার থেকে প্রকৃত রিটার্ন কমেছে, মূলধন সঙ্কুচিত হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অস্থিরতা বাজারকে দুর্বল করে দিয়েছে। মানহীন আইপিওর মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা তোলা হলেও এর সুফল মেলেনি। বরং বাজারে তৈরি হয়েছে স্থায়ী তারল্য সংকট। নিয়ন্ত্রক সংস্থা, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, মধ্যস্থতাকারী ও নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানসহ অংশীজনদের সুশাসনের অভাবও বাজারকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আইসিবি’র বিশেষ তহবিলের মেয়াদ ২০৩২ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি
- সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে শেয়ারবাজারের খান ব্রাদার্স
- মূলধন ঘাটতিতে দুই ব্রোকারেজ হাউজ, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- দুই খবরে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারের চমক
- চলতি বছর শেয়ারবাজারে আসছে রাষ্ট্রায়াত্ব দুই প্রতিষ্ঠান
- সাকিবের মোনার্কসহ ৮ ব্রোকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- ২৩ আগস্ট : শেয়ারবাজারের সেরা ৮ খবর
- হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রতারণা, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করল ডিএসই
- বিএসইসির নতুন মার্জিন বিধিমালার খসড়া অনুমোদন
- বিমা আইন সংস্কার: বিনিয়োগ ও আস্থায় নতুন দিগন্ত
- তালিকাভুক্ত কোম্পানির ১৫ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা
- কোম্পানির অস্বাভাবিক শেয়ারদর: ডিএসইর সতর্কবার্তা
- শেয়ারবাজারের জন্য সুখবর: কমছে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদ
- তিন শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি, ডিএসইর সতর্কবার্তা
- শেয়ারবাজারে রেকর্ড: বছরের সর্বোচ্চ দামে ১৭ কোম্পানি