ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২
খিদে না পাওয়া কি কোনো রোগের লক্ষণ? জেনে নিন
.jpg)
খিদে পাওয়া একটি সুস্থ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। তবে যদি দীর্ঘ সময় ধরে আপনার খিদে না পায়, তবে তা বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, বারবার খিদে না পেলে বা খাওয়ার ইচ্ছা কমে গেলে তা অবহেলা করা উচিত নয়, কারণ এর পেছনে বেশ কিছু গুরুতর কারণ থাকতে পারে।
খিদে কমে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণসমূহমানসিক চাপ (স্ট্রেস): অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে শরীরে কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিন হরমোন নিঃসরণ হয়, যা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং খিদের অনুভূতি কমিয়ে দেয়। দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস অপুষ্টির কারণ হতে পারে।
সর্দি-জ্বর বা ফ্লু: যখন শরীর কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তখন সাইটোকাইন নামক রাসায়নিক তৈরি হয়, যা খিদের অনুভূতি কমিয়ে দেয়। এর সঙ্গে ক্লান্তি ও ব্যথা যোগ হলে খাবারের প্রতি অরুচি আরও বেড়ে যায়।
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে মর্নিং সিকনেস ও বমিভাবের কারণে অনেক নারীর খাওয়ার ইচ্ছা থাকে না। এই সময় চিকিৎসকরা অল্প অল্প করে সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন।
পাকস্থলীর সংক্রমণ (গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস): গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসে আক্রান্ত হলে ডায়রিয়া, বমি এবং পেটব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, যার ফলে খিদে চলে যায়। এ অবস্থায় শরীরকে পানিশূন্যতার হাত থেকে বাঁচাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার গ্রহণ জরুরি।
দীর্ঘস্থায়ী পাচনতন্ত্রের রোগ: আইবিএস, কোলাইটিস বা ক্রোনস ডিজিজের মতো রোগে আক্রান্ত হলে হজমে সমস্যা হয় এবং এর ফলে খাওয়ার প্রতি অনীহা তৈরি হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের রোগ অবহেলা করা বিপদ ডেকে আনতে পারে।
রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া): শরীরে আয়রন বা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির কারণে অ্যানিমিয়া হলে ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং খিদের অভাব দেখা যায়। এ থেকে মুক্তি পেতে সঠিক চিকিৎসা ও পুষ্টি গ্রহণ আবশ্যক।
ডায়াবেটিস: যদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে পাকস্থলী খালি হওয়ার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে পেট ফাঁপা এবং অস্বস্তির কারণে খিদে কমে যেতে পারে। এক্ষেত্রে সঠিক খাবার এবং ওষুধ গ্রহণ করে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
হাইপোথাইরয়েডিজম: থাইরয়েড হরমোন কম উৎপাদিত হলে শরীরের মেটাবলিজম কমে যায় এবং খিদের সংকেত দুর্বল হয়ে যায়। এর ফলে ওজন বাড়তে থাকে। এই সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি কার্যকর হতে পারে।
মাইগ্রেন: মাইগ্রেনের তীব্র মাথা ব্যথা প্রায়শই বমি ও বমিভাবের সঙ্গে আসে, যা খিদের অনুভূতি নষ্ট করে দেয়। মাইগ্রেন সেরে গেলেও স্বাভাবিক খিদে ফিরতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
অবসাদ (ডিপ্রেশন): মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ থাকলে বা বিষণ্নতায় ভুগলে অনেকেরই খাওয়ার রুচি কমে যায়। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। তাই মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে একজন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উচিত।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- তিন কোম্পানির কারখানা বন্ধ, ক্ষোভ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের
- আইসিবি’র বিশেষ তহবিলের মেয়াদ ২০৩২ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি
- কেয়া কসমেটিক্সের ৮ হাজার কোটি টাকা উধাও, চার ব্যাংককে তলব
- সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে শেয়ারবাজারের খান ব্রাদার্স
- মূলধন ঘাটতিতে দুই ব্রোকারেজ হাউজ, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- দুই খবরে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারের চমক
- চলতি বছর শেয়ারবাজারে আসছে রাষ্ট্রায়াত্ব দুই প্রতিষ্ঠান
- সাকিবের মোনার্কসহ ৮ ব্রোকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- ২৩ আগস্ট : শেয়ারবাজারের সেরা ৮ খবর
- হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রতারণা, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করল ডিএসই
- বিএসইসির নতুন মার্জিন বিধিমালার খসড়া অনুমোদন
- বিমা আইন সংস্কার: বিনিয়োগ ও আস্থায় নতুন দিগন্ত
- কোম্পানির অস্বাভাবিক শেয়ারদর: ডিএসইর সতর্কবার্তা
- শেয়ারবাজারের জন্য সুখবর: কমছে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদ
- তালিকাভুক্ত কোম্পানির ১৫ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা