ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
খিদে না পাওয়া কি কোনো রোগের লক্ষণ? জেনে নিন
খিদে পাওয়া একটি সুস্থ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। তবে যদি দীর্ঘ সময় ধরে আপনার খিদে না পায়, তবে তা বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, বারবার খিদে না পেলে বা খাওয়ার ইচ্ছা কমে গেলে তা অবহেলা করা উচিত নয়, কারণ এর পেছনে বেশ কিছু গুরুতর কারণ থাকতে পারে।
খিদে কমে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণসমূহমানসিক চাপ (স্ট্রেস): অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে শরীরে কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিন হরমোন নিঃসরণ হয়, যা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং খিদের অনুভূতি কমিয়ে দেয়। দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস অপুষ্টির কারণ হতে পারে।
সর্দি-জ্বর বা ফ্লু: যখন শরীর কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তখন সাইটোকাইন নামক রাসায়নিক তৈরি হয়, যা খিদের অনুভূতি কমিয়ে দেয়। এর সঙ্গে ক্লান্তি ও ব্যথা যোগ হলে খাবারের প্রতি অরুচি আরও বেড়ে যায়।
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে মর্নিং সিকনেস ও বমিভাবের কারণে অনেক নারীর খাওয়ার ইচ্ছা থাকে না। এই সময় চিকিৎসকরা অল্প অল্প করে সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন।
পাকস্থলীর সংক্রমণ (গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস): গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসে আক্রান্ত হলে ডায়রিয়া, বমি এবং পেটব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, যার ফলে খিদে চলে যায়। এ অবস্থায় শরীরকে পানিশূন্যতার হাত থেকে বাঁচাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার গ্রহণ জরুরি।
দীর্ঘস্থায়ী পাচনতন্ত্রের রোগ: আইবিএস, কোলাইটিস বা ক্রোনস ডিজিজের মতো রোগে আক্রান্ত হলে হজমে সমস্যা হয় এবং এর ফলে খাওয়ার প্রতি অনীহা তৈরি হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের রোগ অবহেলা করা বিপদ ডেকে আনতে পারে।
রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া): শরীরে আয়রন বা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির কারণে অ্যানিমিয়া হলে ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং খিদের অভাব দেখা যায়। এ থেকে মুক্তি পেতে সঠিক চিকিৎসা ও পুষ্টি গ্রহণ আবশ্যক।
ডায়াবেটিস: যদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে পাকস্থলী খালি হওয়ার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে পেট ফাঁপা এবং অস্বস্তির কারণে খিদে কমে যেতে পারে। এক্ষেত্রে সঠিক খাবার এবং ওষুধ গ্রহণ করে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
হাইপোথাইরয়েডিজম: থাইরয়েড হরমোন কম উৎপাদিত হলে শরীরের মেটাবলিজম কমে যায় এবং খিদের সংকেত দুর্বল হয়ে যায়। এর ফলে ওজন বাড়তে থাকে। এই সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি কার্যকর হতে পারে।
মাইগ্রেন: মাইগ্রেনের তীব্র মাথা ব্যথা প্রায়শই বমি ও বমিভাবের সঙ্গে আসে, যা খিদের অনুভূতি নষ্ট করে দেয়। মাইগ্রেন সেরে গেলেও স্বাভাবিক খিদে ফিরতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
অবসাদ (ডিপ্রেশন): মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ থাকলে বা বিষণ্নতায় ভুগলে অনেকেরই খাওয়ার রুচি কমে যায়। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। তাই মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে একজন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উচিত।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- আফগান যুবাদের কাছে হারল বাংলাদেশের যুবারা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহমুদ আলমের মৃত্যু, উপাচার্যের শোক
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা কি অংশ নিতে পারবে? জানুন বিস্তারিত
- জেনে নিন আজকের বাজারে ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কত? জেনে নিন
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- নভেম্বরে টানা তিন দিনের ছুটির সুযোগ, যারা পাবেন
- ১৫ দিনের ব্যবধান দুইবার হবে শারদীয় দুর্গাপূজা
- ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা: ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
- নতুন পে-স্কেলে শিক্ষকদের বেতন কবে, জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২১ অক্টোবর)
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত? জেনে নিন
- এসএসসির টেস্ট পরীক্ষা ২৮ অক্টোবর থেকে, ফল প্রকাশ ১৫ নভেম্বর
- বুধবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ