ঢাকা, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়াচ্ছে জার্মানি, অভিবাসন নীতি আরও কঠোর
অবৈধ বা অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে জার্মানি তার সীমান্তে চলমান কঠোর নজরদারির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেপ্টেম্বরে এই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ডট।
জার্মান সংবাদমাধ্যম 'টেবিল ডট টুডে'-এর এক পডকাস্টে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, "আমরা ১৫ সেপ্টেম্বরের পরেও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখব।" ডোব্রিন্ডটের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বহিরাগত সীমান্তের সুরক্ষা ব্যবস্থা যতক্ষণ না পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে, ততক্ষণ এই নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।
বর্তমান রক্ষণশীল জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার মতে, জার্মান রাজনীতিতে অতি-ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)-এর উত্থান ঠেকাতে এটিই একমাত্র উপায়। ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অভিবাসন একটি প্রধান ইস্যু ছিল এবং এতে এএফডি ২০ শতাংশ ভোট পেয়ে চমক সৃষ্টি করে।
এরই জের ধরে, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই সীমান্তে কড়াকড়ি আরও বাড়ায় এবং আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেয়, যা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগের কারণ হয়েছে। সীমান্তে পুলিশি তল্লাশি জোরদার করতে দৈনিক মোতায়েনকৃত পুলিশ কর্মকর্তার সংখ্যা ১১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৪ হাজার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৮ মে থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জার্মানির স্থল সীমান্ত থেকে ৯,২৫৪ জন অভিবাসীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে আফগানিস্তানের নাগরিকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এরপর রয়েছে আলজেরিয়া, ইরিত্রিয়া এবং সোমালিয়ার নাগরিকেরা। সবচেয়ে বেশি অভিবাসীকে (২,০০০ জনেরও বেশি) ফ্রান্সের সঙ্গে থাকা সীমান্ত থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি, তালেবান-শাসিত আফগানিস্তান এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে যাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও জোরদার করা হয়েছে। গত মাসে দুই দফায় ৮১ জন আফগান নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যাদেরকে গুরুতর অপরাধী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ডোব্রিন্ডট জানিয়েছেন, সিরিয়াতেও নির্বাসন ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বার্লিন কাজ করছে।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জার্মানির এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির মতে, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি বিপর্যয়কর এবং সেখানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কাউকে সেখানে ফেরত পাঠানো আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তবে জার্মান সরকার তাদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সাল থেকে প্রতিবেশী নয়টি দেশের সঙ্গে সীমান্তে নজরদারি শুরু করে জার্মানি। তৎকালীন চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং এই বছরের মার্চে সেই মেয়াদ ছয় মাসের জন্য বাড়ানো হয়। শেনজেন অঞ্চলের নিয়ম অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলো সন্ত্রাসবাদের হুমকি বা ব্যাপক অনিয়মিত অভিবাসনের মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে দুই বছর পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনেট সদস্য হলেন ৫ সংসদ সদস্য
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড
- ঢাবি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
- ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ বাসা থেকে উদ্ধার
- বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রে
- মিমোর মৃ'ত্যু ঘিরে সর্বশেষ যা জানা গেল
- ‘সিলটি’ ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার দাবি