ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
চুক্তিতে ব্যর্থ হলে শাস্তি: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রতি সতর্ক বার্তা
দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অব্যবস্থাপনা ও উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে চাপে থাকা সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে নতুন করে তিন বছরের সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই চুক্তির শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে এবার আর ছাড় নয় বলে জানান—কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এই বিষয়ে নেওয়া হবে ‘কঠোর ব্যবস্থা’।
বিগত বছরগুলোতে অর্থ্যা ২০০৭ সাল থেকে নিয়মিত এক বছরের এমওইউ করে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে তার ফলাফল খুবই হতাশাজনক হওয়ায় এবার সময়সীমা বাড়িয়ে তিন বছর করা হচ্ছে। এতে থাকছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, যদিও ব্যাংকগুলো শীর্ষ খেলাপি গ্রাহক থেকে ঋণ আদায়, মূলধন ঘাটতি পূরণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, পরিচালন ব্যয় হ্রাস, ও সিবিএস বাস্তবায়নসহ নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে এবার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ব্যাংকভেদে আর্থিক চিত্র: সোনালী ব্যাংক:২০২৪ সালের শেষে ব্যাংকটির আমানত দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৫ কোটি টাকা, ঋণ ৯০ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ ১৮ শতাংশ। প্রভিশন ঘাটতি ৩৭১ কোটি টাকা। শীর্ষ ২০ গ্রাহক থেকে আদায় মাত্র ৭ কোটি টাকা।
জনতা ব্যাংক:খেলাপি ঋণে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে জনতা ব্যাংক। ২০২৪ সালের শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশে। প্রভিশন ঘাটতি ৪২ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা এবং মূলধন ঘাটতি ৫২ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। শীর্ষ ২০ গ্রাহক থেকে আদায় মাত্র ৫৫ কোটি টাকা।
অগ্রণী ব্যাংক: খেলাপি ঋণ ৩৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে। প্রভিশন ঘাটতি ৮ হাজার ৮৪৬ কোটি এবং মূলধন ঘাটতি ৪ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। শীর্ষ ২০ গ্রাহক থেকে আদায় মাত্র ৪৩ কোটি টাকা।
রূপালী ব্যাংক: ২০২৪ সালে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ৩২ শতাংশ ছাড়িয়েছে। প্রভিশন ঘাটতি ৭ হাজার কোটি এবং মূলধন ঘাটতি ৫ হাজার ১৯২ কোটি টাকা। শীর্ষ ২০ গ্রাহক থেকে আদায় মাত্র ৪৫ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান: বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্চ ২০২৪ থেকে 'প্রম্পট কারেক্টিভ অ্যাকশন' (PCA) কার্যকর হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে আপাতত অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যেন তারা তিন বছরের মধ্যে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে পারে। তবে এবার ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
পর্যবেক্ষক নেই, ঝুঁকি বাড়ছে: ৫ আগস্টের পর ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো পর্যবেক্ষক নেই। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে পর্যবেক্ষক থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলো অনিয়ম করেছে। এখন পর্যবেক্ষক না থাকায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- মেসির ১০ নম্বর জার্সি কি অবসর নিতে পারবে?
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক