ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
চুক্তিতে ব্যর্থ হলে শাস্তি: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রতি সতর্ক বার্তা
দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অব্যবস্থাপনা ও উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে চাপে থাকা সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে নতুন করে তিন বছরের সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই চুক্তির শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে এবার আর ছাড় নয় বলে জানান—কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এই বিষয়ে নেওয়া হবে ‘কঠোর ব্যবস্থা’।
বিগত বছরগুলোতে অর্থ্যা ২০০৭ সাল থেকে নিয়মিত এক বছরের এমওইউ করে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে তার ফলাফল খুবই হতাশাজনক হওয়ায় এবার সময়সীমা বাড়িয়ে তিন বছর করা হচ্ছে। এতে থাকছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, যদিও ব্যাংকগুলো শীর্ষ খেলাপি গ্রাহক থেকে ঋণ আদায়, মূলধন ঘাটতি পূরণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, পরিচালন ব্যয় হ্রাস, ও সিবিএস বাস্তবায়নসহ নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে এবার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ব্যাংকভেদে আর্থিক চিত্র: সোনালী ব্যাংক:২০২৪ সালের শেষে ব্যাংকটির আমানত দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৫ কোটি টাকা, ঋণ ৯০ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ ১৮ শতাংশ। প্রভিশন ঘাটতি ৩৭১ কোটি টাকা। শীর্ষ ২০ গ্রাহক থেকে আদায় মাত্র ৭ কোটি টাকা।
জনতা ব্যাংক:খেলাপি ঋণে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে জনতা ব্যাংক। ২০২৪ সালের শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশে। প্রভিশন ঘাটতি ৪২ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা এবং মূলধন ঘাটতি ৫২ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। শীর্ষ ২০ গ্রাহক থেকে আদায় মাত্র ৫৫ কোটি টাকা।
অগ্রণী ব্যাংক: খেলাপি ঋণ ৩৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে। প্রভিশন ঘাটতি ৮ হাজার ৮৪৬ কোটি এবং মূলধন ঘাটতি ৪ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। শীর্ষ ২০ গ্রাহক থেকে আদায় মাত্র ৪৩ কোটি টাকা।
রূপালী ব্যাংক: ২০২৪ সালে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ৩২ শতাংশ ছাড়িয়েছে। প্রভিশন ঘাটতি ৭ হাজার কোটি এবং মূলধন ঘাটতি ৫ হাজার ১৯২ কোটি টাকা। শীর্ষ ২০ গ্রাহক থেকে আদায় মাত্র ৪৫ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান: বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্চ ২০২৪ থেকে 'প্রম্পট কারেক্টিভ অ্যাকশন' (PCA) কার্যকর হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে আপাতত অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যেন তারা তিন বছরের মধ্যে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে পারে। তবে এবার ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
পর্যবেক্ষক নেই, ঝুঁকি বাড়ছে: ৫ আগস্টের পর ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো পর্যবেক্ষক নেই। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে পর্যবেক্ষক থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলো অনিয়ম করেছে। এখন পর্যবেক্ষক না থাকায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার রায়ের মৃ’ত্যু
- সকালে না রাতে, কখন গোসল করা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো?
- স্কলারশিপ দিচ্ছে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেনে নিন আবেদন পদ্ধতি
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল আজই
- দেশে সোনার দামে বড় পতন
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড
- নবনিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্য মোর্শেদ হাসান খানকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কা সিরোহী আর নেই