ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে দ্যুতি ছড়াচ্ছে ১৩ ‘বনেদি’ কোম্পানি
বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের মন্দা পরিস্থিতি সত্ত্বেও কিছু 'বনেদি' কোম্পানি তাদের শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি এবং বিনিয়োগকারী-বান্ধব নীতির কারণে দ্যুতি ছড়াচ্ছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৪১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শতাধিক কোম্পানি কোনো ডিভিডেন্ড দেয়নি। তবে ১৩টি কোম্পানি ১০০ শতাংশের বেশি ডিভিডেন্ড দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আশার আলো দেখাচ্ছে। এই কোম্পানিগুলো প্রমাণ করেছে, প্রতিকূল বাজার পরিস্থিতিতেও তারা ধারাবাহিক মুনাফা অর্জন ও সর্বোচ্চ ডিভিডেন্ড বিতরণে সক্ষম, যা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
সর্বোচ্চ ডিভিডেন্ডের ১৩টি কোম্পানির অধিকাংশই বহুজাতিক এবং মৌল ভিত্তির প্রতিষ্ঠান। তাদের স্থিতিশীল আয়, শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা এবং বাজারের নেতৃত্বই এমন কঠিন সময়েও উচ্চ ডিভিডেন্ড বিতরণের প্রধান কারণ। যা বিনিয়োগকারীদের জন্য এক সুসংবাদ এবং বাজারে আশাবাদের মূর্ত প্রতীক।
রেকর্ড ব্রেকার রেকিট বেনকিজার: ৩৩৩০% ডিভিডেন্ড
শীর্ষে রয়েছে বহুজাতিক ভোক্তা পণ্যের কোম্পানি রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ লিমিটেড, যারা ২০২৪ সালে দিয়েছে চমকপ্রদ ৩৩৩০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড। দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ ডিভিডেন্ড দিয়ে আসা এই কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের কাছে নির্ভরতার নাম।
ভোক্তা পণ্যের দুই দিগন্ত: ইউনিলিভার ও ম্যারিকো
পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ, যারা দিয়েছে ৫২০ শতাংশ ক্যাশ এবং ম্যারিকো বাংলাদেশ, যাদের ডিভিডেন্ড ১৯২০ শতাংশ। তারা কেবল মুনাফা করছে না, সেই মুনাফার বড় অংশ শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে নিয়মিতভাবে ভাগ করে নিচ্ছে।
রং-জুতার পথিকৃত: বার্জার, বাটা সু
রং-তুলির পুরোধা বার্জার পেইন্টস ডিভিডেন্ড দিয়েছে ৫০০ শতাংশ। আর জুতার দিকপাল বাটা সু দিয়েছে ১০৫ শতাংশ। মাঝখানে বাটা সু কিছুটা ম্লান হলেও আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আর বার্জার সব সময়ই উজ্জ্বল।
গ্যাস-চিকিৎসা-তথ্যপ্রযুক্তিতে নির্ভরতা: লিন্ডে, গ্রামীণফোন
শিল্প ও চিকিৎসা গ্যাস উৎপাদনকারী লিন্ডে বাংলাদেশ দিয়েছে ৪০০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড এবং টেলিকম খাতের জায়ান্ট গ্রামীণফোন দিয়েছে ৩৭০ শতাংশ। তাদের অব্যাহত ক্যাশ প্রবাহ এবং শক্তিশালী অপারেশনাল ভিত্তি এই অর্জনের পেছনে মূল চালিকাশক্তি।
দেশি জায়ান্ট ওয়ালটন, সরকারি তিন তেল কোম্পানি
দেশীয় ইলেকট্রনিক জায়ান্ট ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ দিয়েছে ৩২০ শতাংশ ক্যাশ। তেল-জ্বালানি খাতের সরকারি কোম্পানিগুলোর মধ্যে মেঘনা পেট্রোলিয়াম ১৭০ শতাংশ ক্যাশ, যমুনা অয়েল ১৫০ শতাংশ ক্যাশ এবং পদ্মা অয়েল ১৪০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করেছে। সরকার মালিকানাধীন হলেও পরিচালনায় দক্ষতা ও মুনাফা বণ্টনে তাদের ইতিবাচক মনোভাব প্রশংসার দাবি রাখে।
স্থিরতার প্রতীক: স্কয়ার ফার্মা, রেনেটা
দেশের অন্যতম শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ২০২৪ সালে দিয়েছে ১১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড। ওষুধ খাতে কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের জন্য লাভজনক ও স্থিতিশীল আয়ের উৎস হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে। আর রেনেটাও ডিভিডেন্ডে এক সময়ে শীর্ষ স্থানে অবস্থান করেছে। বর্তমানে কিছুটা চাপে রয়েছে।
আলোচ্য কোম্পানিগুলোর উচ্চ ডিভিডেন্ড প্রদান এমন সময়ে ঘটছে যখন শেয়ারবাজার দীর্ঘমেয়াদী মন্দার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। এটি কেবল তাদের নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতারই প্রমাণ নয়, বরং সামগ্রিকভাবে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতেও সাহায্য করছে। এই 'বনেদি' কোম্পানিগুলো কঠিন পরিস্থিতিতেও বিনিয়োগকারীদের মাঝে উজ্জ্বলতা ছড়াচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য একটি ইতিবাচক দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ম্যাচ: সরাসরি দেখা যাবে এখানে LIVE
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ফুটবল ম্যাচ, দেখুন একাদশ-দেখার উপায়
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোর ম্যাচটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- সাফ নারী ফাইনাল: বাংলাদেশ বনাম ভারত, ৪ গোলে শেষ ম্যাচ, দেখুন ফলাফল
- ঢাবি শিক্ষককে বিয়ে করলেন দীপ্তি চৌধুরী
- বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের ফুটবল ম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন এখানে
- আজ বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখবেন যেভাবে
- ঢাবির এসএম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুস সালাম
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- বাংলাদেশে যেসব চ্যানেলে দেখা যাবে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব