ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
হয়রানিমূলক ১০ হাজার মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ
ডুয়া ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিএনপি-জামায়াত-সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের হাজারো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে দায়ের হওয়া এসব মামলাকে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সারা দেশে মোট ১০ হাজার ৫০৬টি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন-১ শাখার এক কর্মকর্তা জানান, এসব মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে চিঠির মাধ্যমে মামলা নম্বর উল্লেখ করে জেলা পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) কাছে মতামত গ্রহণ ও ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৪৯৪ ধারা অনুসরণ করে এসব মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক কারণে দায়ের হওয়া হয়রানি মূলক মামলা পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া তদারকির জন্য দুটি পর্যায়ে কমিটি গঠন করেছে জননিরাপত্তা বিভাগ। একটি জেলা পর্যায়ে এবং অন্যটি মন্ত্রণালয় পর্যায়ে কাজ করছে।
জেলা পর্যায়ের কমিটিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট থাকছেন কমিটির সভাপতি হিসেবে। সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। কমিটির বাকি সদস্যরা হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার এবং পাবলিক প্রসিকিউটর।
জেলা পর্যায়ের কমিটির মতামতে যদি কোনো মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা হয়রানিমূলক হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে কমিটি তা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে। সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মামলার সুপারিশ-সহ এজাহার, অভিযোগপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ধারিত ছকে আবেদন পাওয়ার ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন।
এই প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কিংবা আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটরের বরাবর আবেদন জমা দেওয়া যাচ্ছে। তবে এসব আবেদন প্রথমে যাচাই-বাছাই করে তালিকা তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয় পর্যায়ের কমিটির সভায় তা রেজুলেশন আকারে অনুমোদন করা হয়। এরপর আবেদনপত্রগুলো আবার ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ফেরত আসার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর অফিসিয়াল চিঠি পাঠানো হয়।
জেলা কমিটির কার্যপ্রণালী ও দায়িত্ব নির্ধারণ করে সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ের সুপারিশের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় পর্যায়ের কমিটি মামলাগুলোর যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহার যোগ্য মামলা চিহ্নিত করবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
মন্ত্রণালয় পর্যায়ের কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং সদস্যসচিব হিসেবে আছেন জননিরাপত্তা বিভাগের আইন-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব। আরও কয়েকজন সদস্যও এই কমিটিতে রয়েছেন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশ পোস্ট বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের স্মারকলিপি
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান পরিবহন মালিক সমিতির
- শতবর্ষী ৮০৮ স্কুল-কলেজের তালিকা করল মাউশি
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন এখানে
- সিগারেট নিয়ে নতুন বিধান জারি
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত
- অপ্রতিম হ/ত্যার রহস্যময় তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ
- নতুন পে স্কেলের বাইরে থাকছেন যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী
- আত্মহ/ত্যার আগে যা লিখেছিলেন এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী
- ঢাবিতে ৮ম কুইজ ফেস্ট ও ফ্রেশার্স রিসেপশন অনুষ্ঠিত