ঢাকা, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ঢাবি ছাত্র সাম্য হ-ত্যা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন সারজিস
ডুয়া ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য (২৫) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এ ঘটনায় উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেছে ছাত্রদল। তবে ঘটনাটির পেছনের বাস্তবতা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
বুধবার (১৪ মে) তিনি তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে লেখেন, “আমার ক্যাম্পাস অভিজ্ঞতা থেকে বলছি—তথ্যগুলো ডিটেইলড হলেও গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দোষারোপ নয়, বাস্তবতাকে সামনে আনতে হবে
সারজিস আলম লিখেছেন, “সাম্য হত্যার পর উপাচার্য ও প্রক্টরের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে, যা এক ধরনের সত্য আড়াল করার অপচেষ্টা। ঘটনার স্থান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। বরং, ওই এলাকায় যে অসংখ্য অনিয়ম চলছে, তা দীর্ঘদিনের একটি শক্তিশালী চক্রের কাজ।"
তিনি জানান, “উদ্যানে মাদকসেবন, চাঁদাবাজি, হেনস্তা ইত্যাদি যেসব অপরাধ চলে, সেগুলো পরিচালনা করে প্রভাবশালী সংগঠনগুলোর ছায়ায় থাকা সিন্ডিকেট। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব দোকান বসায়নি, বরং কিছু ক্ষমতাধর নেতাকর্মী নিজ স্বার্থে এসব বসিয়ে চাঁদাবাজি করছে এবং নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে।”
অবৈধ দোকান ও বহিরাগতদের উপস্থিতি: একটি গভীর সমস্যা
সারজিস আলম মন্তব্য করেন, “উদ্যানের ফটক ও ভেতরে স্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা দোকানগুলোই হত্যাকাণ্ডের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। মেট্রোরেল স্টেশন ও শহীদ মিনার কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ভাসমান দোকান এবং দোয়েল চত্বরের পাশে গড়ে ওঠা ব্যবসা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বহিরাগতদের চায়ের দোকান কিংবা আড্ডার স্থান হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “টিএসসি এলাকাকে দখল করে সেখানে গড়ে ওঠা চায়ের দোকানগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার বহিরাগত আসে, যাদের একটি অংশ মাদকসেবী ও বখাটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাফেটেরিয়াগুলো অকার্যকর করে দিয়ে এই দোকানগুলো চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।”
দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
সারজিস আলম বলেন, “আমাদের ভাই সাম্যকে হারানো যেমন হৃদয়বিদারক, তেমনি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। প্রশাসন যদি উদ্যোগ নেয় এসব অবৈধ দোকান উচ্ছেদে, তখন এক শ্রেণির তথাকথিত প্রগতিশীল ও সুশীলদের প্রতিবাদ শুরু হয়। এই দ্বিচারিতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।”
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন:
১. ক্যাম্পাসে সকল ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করতে হবে
২. শিক্ষার্থীদের জন্য সক্রিয় ও সুলভ মূল্যের ক্যাফেটেরিয়ার ব্যবস্থা করতে হবে
৩. টিএসসিকে চায়ের দোকানের আখড়া থেকে মুক্ত করতে হবে
৪. বহিরাগত ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে
সারজিস আলম জোর দিয়ে বলেন, “আমরা চাই, সাম্যের হত্যার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। প্রশাসনের উচিত, বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি নিরাপদ, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে রূপান্তর করা এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন আর এমন ঘটনার শিকার না হয়—সেই নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা।”
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম চীনের ফুটবল ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- শেষ হলো বাংলাদেশ বনাম উত্তর কোরিয়ার ফুটবল ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- বাংলাদেশ বনাম চীনের ফুটবল ম্যাচ: কবে, কখন, কোথায়-জানুন সময়সূচি
- উৎপাদন বন্ধ থাকায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামল তালিকাভুক্ত কোম্পানি
- বাংলাদেশ বনাম চীন ফুটবল ম্যাচ: জেনে নিন ফলাফল
- জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করল সরকার
- বিক্রিতে ধস, অথচ শেয়ার দরে উল্লম্ফন: জি কিউ বলপেনের রহস্য কী?
- ইরানে স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০৮
- শিক্ষকরা ফেব্রুয়ারির বেতন বেতন পাবেন কবে, জানাল মাউশি
- আতঙ্ক কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই, সূচকের বড় লাফ
- দুবাই বিমানবন্দরে আটকা অভিনেত্রী, মোদির কাছে বাঁচার আকুতি
- ২৭ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের বিধ্বংসী হামলা
- চলেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা: ম্যাচটি সরাসরি দেখুন এখানে (LIVE)
- বাংলাদেশ বনাম চীন: আজকের ম্যাচ লাইভ দেখার সহজ উপায়
- সামরিক চাপে ইরান এখন সমঝোতায় আসতে বাধ্য হবে: ট্রাম্প