×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১৬:০২:৩১

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সাবেক মডেল ও মিস সুইজারল্যান্ড বিয়াত্রিস কিউলের ধর্ষণের অভিযোগ এবং কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর কথিত সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কিউলের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর দাবি, ১৯৯৩ সালে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবেদনটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের কথিত সম্পর্ক এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে একাধিক নারীর বক্তব্য স্থান পেয়েছে। এতে পাঁচজন নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট কর্মীদের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরে সাক্ষাৎকারে কিউল দাবি করেন, ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাসংক্রান্ত অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৪ বছর। সে সময় হোটেলটির মালিক ছিলেন ট্রাম্প। কিউলের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া এবং নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনওয়াইইউ) ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার দেখাশোনা করব।’

কিউলের অভিযোগ, ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথন শেষ হওয়ার পরপরই এপস্টেইন তাঁর কাছে আসেন। এপস্টেইন নিজেকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচয় দিয়ে মার-আ-লাগোতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। পরে ট্রাম্পের একজন প্রতিনিধি কিউলকে প্লাজা হোটেলের ওপরের তলায় ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার আমন্ত্রণ জানান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিউলের দাবি, সেখানে যাওয়ার পর ট্রাম্প তাঁকে পেছন থেকে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এতে তাঁর পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তপাত ও কালশিটে পড়ে। ঘটনাটিকে ‘নিষ্ঠুর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। কিউলের আরও দাবি, ঘটনার পর ট্রাম্প তাঁকে বিছানার কিনারায় বসান এবং ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আশ্বাস আবারও দেন। একই সঙ্গে তাঁকে নীরব থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে বলেন। প্রতিবেদনে ট্রাম্পের কথিত বক্তব্য হিসেবে ‘শো চলতেই হবে’ কথাটিও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একই ঘটনা সম্পর্কে ভিন্ন বর্ণনা দিয়েছিলেন কিউল। সে সময় তাঁর অভিযোগ ছিল, ট্রাম্প তাঁকে ঠোঁটে ও ঘাড়ে চুমু দিয়েছিলেন, পোশাক তোলার চেষ্টা করেছিলেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেছিলেন। তবে তাঁর বাধার মুখে ঘটনা আর এগোয়নি বলে দাবি করেছিলেন তিনি। নতুন প্রতিবেদনে একই ঘটনার বিষয়ে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন কিউল। আগের বক্তব্যের সঙ্গে নতুন বর্ণনার এই পার্থক্যের কারণ প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।

অভিযোগ প্রত্যাখ্যান হোয়াইট হাউসের

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। একজন মুখপাত্রের ভাষ্য, ডেমোক্র্যাটদের প্রতিবেদনটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের অর্জন থেকে মার্কিন জনগণের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগগুলোকে ‘উন্মত্ত ডেমোক্র্যাটদের মরিয়া প্রচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, এপস্টেইন-সংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাম্পকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণ করা হয়েছে।

ট্রাম্পও এপস্টেইনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাঁর দাবি, এপস্টেইনের অপরাধ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ার অনেক আগেই তাঁদের বন্ধুত্বের অবসান ঘটেছিল। ট্রাম্প আরও বলেছেন, তিনি এপস্টেইনকে নিজের মার-আ-লাগো ক্লাব থেকে বের করে দিয়েছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালে কিউলের অভিযোগ সামনে আসার পর ট্রাম্পের তৎকালীন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট অভিযোগগুলোকে ‘ভুয়া’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

এপস্টেইন-সংযোগ নিয়ে তদন্তের দাবি

ডেমোক্র্যাটদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে কিউল ছাড়াও আরও কয়েকজন নারীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, এপস্টেইন ও তাঁর সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের মাধ্যমে কিছু নারীকে ট্রাম্পের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে প্লাজা হোটেলে আয়োজিত সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার পরিবেশকে তরুণী ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা নারীদের লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের বিচার বিভাগ এপস্টেইন-সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য গোপন করছে। তিনি এ বিষয়ে আরও তদন্তের দাবি জানান। তবে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগটি ডেমোক্র্যাটদের বক্তব্য; প্রতিবেদনে এর সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়নি।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে নির্বাচনের ব্যালটে না থাকলেও তাঁর প্রশাসনের কার্যক্রম, এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের নতুন অভিযোগ প্রকাশ এবং এপস্টেইন-সংক্রান্ত তদন্ত নিয়ে বিতর্ক রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ ও বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রতিবেদনে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ইস্যু নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। তবে নতুন অভিযোগগুলোর নির্বাচনী ফলাফলে কী প্রভাব পড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা, হোয়াইট হাউসের জবাব এবং এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি নিয়ে পরবর্তী তদন্ত—সবকিছুই মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন রাজনীতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকতে পারে।

ইমামুল

ট্যাগ: ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্য টেলিগ্রাফ আন্তর্জাতিক সংবাদ মার্কিন কংগ্রেস ক্যারোলিন লেভিট বিশ্ব রাজনীতি রিপাবলিকান পার্টি মার্কিন রাজনীতি জেফরি এপস্টেইন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ বিয়াত্রিস কিউল ট্রাম্প ও এপস্টেইন সম্পর্ক ট্রাম্পের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬ প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটি ডেমোক্র্যাটদের প্রতিবেদন হোয়াইট হাউসের বক্তব্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ এপস্টেইন নথি এপস্টেইন কেলেঙ্কারি গিলেন ম্যাক্সওয়েল জেমি রাসকিন মার্কিন নির্বাচনী প্রচার প্লাজা হোটেল নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় মার-আ-লাগো ডেইলি মেইল যৌন নিপীড়ন বিতর্ক ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ খবর

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত