×

ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

জলবায়ু পরিবর্তন ও যুদ্ধের ঝুঁকি, জরুরি প্রস্তুতিতে জোর দিচ্ছে বিভিন্ন দেশ

২০২৬ অক্টোবর ২৪ ১১:৩৬:৪২

জলবায়ু পরিবর্তন ও যুদ্ধের ঝুঁকি, জরুরি প্রস্তুতিতে জোর দিচ্ছে বিভিন্ন দেশ

জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ, সাইবার হামলা ও নাশকতার ঝুঁকি বাড়ায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাগরিকদের প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। খাবার, পানি, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কয়েক দিনের জন্য মজুত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় ধরনের দুর্যোগে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, ব্যাংকিং ও সরবরাহব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগপর্যন্ত নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ফ্রান্স

ফ্রান্সে দুর্যোগের প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ জন্য খাবার, পানি, ওষুধ, নগদ অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ নথির কপি ও অতিরিক্ত চাবিসহ জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ ও গুজব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জার্মানি

জার্মানিতে সম্ভব হলে ১০ দিনের খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখতে বলা হয়েছে। অন্তত তিন দিনের সরবরাহ থাকলেও তা সহায়ক হতে পারে। দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য খাবার, সৌরশক্তি বা হাতে চালানো রেডিও, জরুরি ফোন নম্বরের তালিকা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে দুর্যোগের আগে পরিবারের জন্য পরিকল্পনা তৈরি এবং জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য দৈনিক প্রায় ৩ দশমিক ৮ লিটার পানি রাখার নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া বাঁশি, ধুলারোধী মাস্ক ও আশ্রয় তৈরির উপকরণ রাখার কথা বলা হয়েছে। অঙ্গরাজ্যভেদে কয়েক দিন থেকে দুই সপ্তাহের প্রস্তুতির পরামর্শ দেওয়া হয়।

নর্ডিক দেশগুলো

ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর নর্ডিক দেশগুলো দুর্যোগ প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে। ফিনল্যান্ডে অন্তত তিন দিনের খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখতে বলা হয়েছে। দেশটির কৌশলগত খাদ্যভান্ডারে থাকা শস্য দিয়ে সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়লে প্রায় নয় মাস জনগণের খাদ্যচাহিদা মেটানো সম্ভব।

সুইডেনে যুদ্ধ, মহামারি ও চরম আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় নিয়ে অন্তত এক সপ্তাহের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। নরওয়েতেও এক সপ্তাহের প্রয়োজনীয় সামগ্রী, গরম কাপড়, স্লিপিং ব্যাগ ও মোমবাতি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডেনমার্কে তিন দিনের খাবারের নমুনা তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণত তিন থেকে সাত দিনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলসের স্বাস্থ্য বিভাগ দুই সপ্তাহের প্রস্তুতির কথা বলেছে। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশেষ চাহিদা বিবেচনায় রাখার পাশাপাশি দাবানল মোকাবিলায় বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং ধোঁয়া থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে।

বিভিন্ন দেশের এসব নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো, বড় ধরনের দুর্যোগে জরুরি সেবা ও সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হলেও নাগরিকেরা যেন অন্তত কয়েক দিন নিজেদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে পারেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আন্তর্জাতিক এর অন্যান্য সংবাদ