×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত না হলে রোগের দুর্ভোগ কমবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১৪:১৩:০১

ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত না হলে রোগের দুর্ভোগ কমবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: শুধু ডায়ালাইসিস মেশিন কেনা কিংবা হাসপাতাল নির্মাণ করে অসুস্থ মানুষের দুর্ভোগ ও মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের জন্য ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে না পারলে জনস্বাস্থ্যের পরিস্থিতির উন্নতি হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি নিয়েও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিকট অতীতের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির ধারা ভাঙতে হবে। জনগণের চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ করা অর্থের একটি টাকাও দুর্নীতির গহ্বরে যেতে দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ভবনে বিশ্ব আয়োডিন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিসিক, গেইন, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল এবং শিল্প ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য খাতের নির্বাচনি ইশতেহারের মূল ভিত্তি হলো রোগ প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। তবে চিকিৎসাসেবা ও অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি ভেজাল খাদ্য এবং দুর্নীতি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় অন্তরায়।

তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় ডায়ালাইসিস মেশিন ও বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হলেও ভেজাল খাদ্য বন্ধ করা না গেলে কিডনিসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জোরালো ভূমিকা কামনা করেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ১৬ হাজার কোটি টাকার দরপত্র আহ্বানের কথা উল্লেখ করে ড. এম এ মুহিত বলেন, বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিকে বিন্দুমাত্র বরদাশত করবেন না। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যত শক্তিশালীই হোন না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দৃঢ় আশ্বাস দেন তিনি।

আয়োডিনের ঘাটতি দূর করার কার্যক্রমের প্রশংসা করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আয়োডিনযুক্ত লবণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ফলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতার হার অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, এখনো প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনবিহীন লবণ খাচ্ছেন।

এই আটজনে একজন মানুষকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট গবেষণার মাধ্যমে তাঁদের কাছে আয়োডিনযুক্ত লবণ পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ ছাড়া পুষ্টিহীনতায় ভোগা প্রতিবন্ধী শিশুদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেশের প্রতিবন্ধী শিশুদের মূলধারার পুষ্টি ও স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে এ ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের একটি পরিসংখ্যানও উল্লেখ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকের হোসেন খান, গেইনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. রুদাবা খন্দকার, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. এ কে এম মুসা এবং বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিকের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত