×

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

কর্মব্যস্ততায় যেসব অভ্যাস বাড়াচ্ছে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

২০২৬ অক্টোবর ২৩ ১৭:২৭:০৯

কর্মব্যস্ততায় যেসব অভ্যাস বাড়াচ্ছে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক: কাজের ব্যস্ততায় সময়মতো খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা কিংবা পর্যাপ্ত ঘুম—কোনোটিই ঠিকমতো হয়ে ওঠে না অনেকের। কেউ দুপুরের খাবার বাদ দেন, কেউ দিনের বেশির ভাগ সময় চেয়ারে বসে কাটান। আবার রাতে দেরিতে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাসও রয়েছে অনেকের। দীর্ঘ মেয়াদে এসব অনিয়ম শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শারদাকেয়ার-হেলথসিটির ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক চিকিৎসক নিরাজ কুমারের মতে, সুস্থ থাকতে সুষম খাবার ও ব্যায়ামের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাপনের অভ্যাসের প্রতিও যত্নবান হওয়া প্রয়োজন।

দীর্ঘক্ষণ বসে কাজের প্রভাব

শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এসব প্রক্রিয়ার সমষ্টিকে বলা হয় বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম। খাবার থেকে শক্তি উৎপাদন, রক্তে শর্করার ব্যবহার এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এর সঙ্গে জড়িত।

চিকিৎসক নিরাজ কুমার বলেন, অনেক কর্মজীবীর শারীরিক কার্যক্রম কর্মস্থলে যাতায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। দিনের অধিকাংশ সময় বসে কাজ করায় তাঁদের শরীরের নড়াচড়া কম হয়।

পেশি শক্তি উৎপাদনের জন্য গ্লুকোজ ব্যবহার করে। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকলে শরীরে ইনসুলিন প্রতিরোধের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ অবস্থায় ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ করতে না পারায় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের ২০২৫ সালের ডায়াবেটিস অ্যাটলাসের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ভারতে ২০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী আনুমানিক ৯ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। বয়স ও জিনগত বৈশিষ্ট্যের মতো কারণের পাশাপাশি শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও খাদ্যাভ্যাসও ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।

অনিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়ার প্রভাব

কাজের চাপে অনেকেই দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় পান না। কেউ দুপুরের খাবার বাদ দিয়ে বিকেলে বারবার হালকা খাবার খান। আবার কারও রাতের খাবার খাওয়ার সময় নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক দেরিতে হয়।

চিকিৎসক নিরাজ কুমার সেল মেটাবলিজম সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করেছেন। অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে, দেরিতে খাবার খাওয়ার ফলে ক্ষুধা বেড়েছে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনে পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি জেগে থাকা অবস্থায় শরীরের শক্তি ব্যয়ের হারও কমেছে।

এ থেকে বোঝা যায়, সুস্থ থাকতে শুধু খাবারের ধরন ও পরিমাণের দিকে নজর দিলেই হবে না, খাবার খাওয়ার সময়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

দৈনন্দিন রুটিনে যেসব পরিবর্তন আনবেন

কর্মব্যস্ততার কারণে সবার পক্ষে দৈনন্দিন রুটিন পুরোপুরি বদলে ফেলা সম্ভব নয়। তবে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে শারীরিক কার্যক্রম বাড়ানো এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

চিকিৎসক নিরাজ কুমারের পরামর্শ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে কাজের ফাঁকে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ানো এবং বিরতির সময় অল্প হাঁটাচলা করা ভালো। পাশাপাশি বাড়ি থেকে সুষম খাবার নিয়ে যাওয়া এবং প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে ১৫০ থেকে ৩০০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম করা উচিত। দ্রুত হাঁটা এ ধরনের কার্যক্রমের একটি উদাহরণ। নিয়মিত হাঁটাচলা ও শরীরচর্চা সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখার পাশাপাশি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি কেন

বিপাকীয় বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে। ফলে অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তাঁদের রক্তে শর্করা, রক্তচাপ কিংবা কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেছে।

এ কারণে বয়স, ব্যক্তিগত চিকিৎসার ইতিহাস ও অন্যান্য ঝুঁকির বিষয় বিবেচনায় নিয়মিত রক্তে শর্করা, রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য সমস্যা শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।

কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপ সব সময় এড়ানো সম্ভব নয়। তবে অনিয়মিত সময়ে খাওয়া, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। দৈনন্দিন রুটিনে ছোট ছোট পরিবর্তন, নিয়মিত হাঁটাচলা, সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুম দীর্ঘ মেয়াদে বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত