×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

পরীক্ষা ও ফল প্রকাশে বিলম্বে ৪০ লাখ বছর নষ্ট হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী 

২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১৬:০১:২০

পরীক্ষা ও ফল প্রকাশে বিলম্বে ৪০ লাখ বছর নষ্ট হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী 

নিজস্ব প্রতিবেদক: এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিলে দুই বছরের বিলম্বে জাতির জীবন থেকে মোট ৪০ লাখ বছর হারিয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময়ের হিসাব প্রশাসনের কর্মকর্তারা করেছেন কি না, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর জবাবদিহি করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘জাতির ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড, আমি শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার পরেও ৪০ লাখ বছর চলে যাচ্ছে। এই জায়গাগুলোতে অ্যাড্রেস করার জন্য চেষ্টা করছি, কিন্তু কোনো না কোনো কারণে পেরে উঠছি না।’ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বগুড়ায় ৪৯তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন ধাপে সময়ক্ষেপণের বিষয়টি তুলে ধরে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ছয় বছর বয়সে একটি শিশু স্কুলে যাওয়া শুরু করে। ১৬ বছর বয়সে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা নেওয়া ও সার্টিফিকেট দিতে এক বছর চলে যায়। ফলে ১৭ বছর বয়সে সে এসএসসি সার্টিফিকেট পায়।

তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছর আবার দিয়ে দেওয়া হয় ইন্টারমিডিয়েটের জন্য। আবার বোর্ড পরীক্ষা নেওয়ার জন্য একটি বছর নিয়ে নেয়। অর্থাৎ হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন, হায়ার সেকেন্ডারি সার্টিফিকেট, ইন্টারমিডিয়েট পাস করবে-১২ বছর স্কুল। আর ছয় বছর বয়স থেকে ১৮, আমরা চলে আসছি ২০ বছর বয়সে। দুটি বছর নিয়ে নেওয়া হলো।’

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা এগিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পারার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা নিতে চেয়েছিলাম একটু এগিয়ে এনে, কিন্তু পারিনি। শেষ মুহূর্তে রমজানের জন্য, এবার পার হয়ে গেল। কারণ রমজানের আগে পরীক্ষা নিতে গেলে খুব টাইট হয়ে যায়। আবার রমজানের পরে গেলে দেরি হয়ে যায়। তবু রমজানের পরে আমরা শুরু করছি।’

পরীক্ষা ও নিয়োগপ্রক্রিয়ার সময় কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা চাচ্ছিলাম ইন্টারভিউ পরীক্ষা আরও সিঙ্ক্রোনাইজড করতে। হয়ে ওঠেনি। হতে হবে। আমাদের ইচ্ছা আছে, চেষ্টা আছে, আস্তে আস্তে। এই যে সব জায়গায় লস, এই যে এক বছর বসে থাকা, এই বিসিএস পাস করার পরে জয়েন করা—এই জায়গাটাকে আমাদের এক্সপ্লেইন করতে হবে।’

৪৯তম বিসিএস শিক্ষা স্পেশালাইজড পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘জীবনের কতগুলো সময় পার হয়ে গেল? ৪৯তম বিসিএস শিক্ষা স্পেশালাইজড, লক্ষাধিক পরীক্ষা দিয়েছেন। সেখান থেকে কত? ৫০০ মতো এমসিকিউতে টিকার পরে, ভাইভা, তারপরে ৬৫১ জন আমরা পেয়েছি আজকে। এই বিসিএসটি ডিটারমাইন্ড ছিল যে আমরা শিক্ষকতায় আসব।’

সময়ক্ষেপণের প্রভাব ব্যাখ্যা করে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এই যে সময়ক্ষেপণ, এটা কিন্তু ন্যাশনাল ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড থেকে আমাদের পিছিয়ে দেয়। পিছিয়ে দেয় আমার ব্যক্তিগত পরিবারকে সাহায্য করার থেকে, পিছিয়ে দেয় জাতিকে। এই জিনিসটি আমাদের বিশ্বাস করতে হবে, বুঝতে হবে।’

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত