×

ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

নারীর ক্ষমতায়নে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বদলাতে হবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি: ববি হাজ্জাজ

২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৬:২৪:৪৫

নারীর ক্ষমতায়নে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বদলাতে হবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারীর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কেবল পেশাগত প্রশিক্ষণ কিংবা চাকরির সুযোগ তৈরি করলেই চলবে না। এর পাশাপাশি নারীর আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগদক্ষতা বাড়ানো, অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা এবং পরিবার ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা—KOICA) ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ (Her Skills, Her Future) শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী পেশাগত ও জীবনমুখী দক্ষতা বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই ছিল প্রকল্পটির প্রধান উদ্দেশ্য।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা বাড়ানোর কর্মসূচি তৈরির সময় বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা মাথায় রাখতে হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর নারীদের ক্ষমতায়নে তাঁদের পরিবারকে সম্পৃক্ত করা জরুরি। কারণ, একজন নারীকে তাঁর পরিবার থেকে আলাদা করে বিবেচনা করা যায় না। পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে নারীর ব্যক্তিগত সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পথ সহজ হবে।

তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নকে শুধু একটি সাধারণ ধারণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়গুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সেগুলোর সমন্বয়ে কার্যকর কর্মসূচি নিতে হবে। একজন নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার আগে তাঁর আত্মবিশ্বাস, নিজের অধিকার সম্পর্কে ধারণা এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাও প্রয়োজন।

নারীর যোগাযোগদক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিজের যোগ্যতা ও সম্ভাবনা যথাযথভাবে অন্যের সামনে তুলে ধরতে পারা একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। কোনো নারী তাঁর কাজ, পণ্য বা সেবার গুণাগুণ কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে পারলে কর্মসংস্থান পাওয়া কিংবা উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এ কারণে নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচিতে যোগাযোগদক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বিষয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, সামাজিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেক সময় মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি করে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবারগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কাজ করা প্রয়োজন। মেয়েদের শিক্ষা গ্রহণ, দক্ষতা অর্জন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ বাড়ানো গেলে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও বাড়বে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে আইনগত সুরক্ষা ও সচেতনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসংস্থান ও আয়মূলক কাজে নারীর অংশগ্রহণ পরিবার ও সমাজে তাঁদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগগুলো শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

নারীদের জন্য উন্নয়ন কর্মসূচি তৈরির ক্ষেত্রে তাঁদের প্রকৃত প্রয়োজন ও সীমাবদ্ধতা বোঝার ওপরও গুরুত্ব দেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া কিশোরী ও তরুণীদের জন্য এমন কর্মসূচি প্রয়োজন, যাতে তাঁরা নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সহযোগিতাও পান। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংস্থা ও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শঙ্কর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত