×

ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী

২০২৬ অক্টোবর ১১ ১৩:০৯:৪৩

জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সমুদ্র, নদী ও স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বাড়াতে জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরি করছে সরকার। আমদানি-রপ্তানি সম্প্রসারণ, পরিচালনব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতার সদ্ব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষাকে এ কৌশলে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো একটি মন্ত্রণালয় বা সংস্থার স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

আজ রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ বন্দর ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। অথচ সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর আলাদা কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কাস্টমস এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যুক্ত। এ কারণে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে সবার মতামত নেওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থার কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব খর্ব না করে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে কৌশলটি তৈরি করতে হবে। দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রয়োজন ও স্বার্থ বিবেচনায় রাখতে হবে।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে ভারসাম্যের ওপর গুরুত্ব

বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন শেখ রবিউল আলম। এ প্রসঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ড, ডেনমার্কের এপি মোলার এবং সিঙ্গাপুরের পিএসএ-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বন্দরের কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব। তবে এ উদ্যোগ থেকে সুফল পেতে সমন্বিত নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বন্দর পরিচালনা, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। কৌশলপত্র তৈরির সময় কোনো একটি পক্ষের স্বার্থকে এককভাবে প্রাধান্য দেওয়া হলে প্রত্যাশিত ফল অর্জন ব্যাহত হতে পারে।

বন্দর উন্নয়নকে কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমিত না রাখার কথাও বলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী। তাঁর মতে, টার্মিনাল পরিচালনা, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, পণ্য খালাস, পরিবহন সংযোগ ও কাস্টমস কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

কৌশল প্রণয়নে সহায়তা করছে জাইকা

জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরিতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সহায়তা করছেন বলে জানান শেখ রবিউল আলম। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও মতামত কাজে লাগিয়ে কার্যকর কৌশলপত্র প্রণয়ন করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সেমিনারে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের বন্দরগুলোকে সক্ষম করে তুলতে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান বের করতে হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়ানো, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

সেমিনারে নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া, বাংলাদেশে জাইকার কান্ট্রি ডিরেক্টর তাকাহাশি, বিভিন্ন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত