×

ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

রমজানে খাদ্য সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা নেই: খাদ্যমন্ত্রী

২০২৬ অক্টোবর ১০ ১৬:৫৪:২১

রমজানে খাদ্য সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা নেই: খাদ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। এ কারণে আসন্ন রমজানে খাদ্য সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দেবে না বলে আশাবাদ জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেটি ও সাইলো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে তিনি নগরীর দেওয়ানহাট সিএসডির গুদাম পরিদর্শন করেন এবং হালিশহর সিএসডির সম্মেলনকক্ষ উদ্বোধন করেন।

আফরোজা খানম বলেন, দেশে খাদ্যের ঘাটতি নেই এবং চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জনগণের কাছে নির্ধারিত সময়ে নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে খাদ্য সংরক্ষণ, মজুত ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার কাজ চলছে।

রমজানে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও দাম কেমন থাকবে, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আসন্ন রমজান সামনে রেখে সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত থাকায় এ সময় সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সুলভ মূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে পণ্যের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে। তবে দেশের বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

খাদ্য আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থা সম্পর্কে আফরোজা খানম বলেন, আমদানি প্রক্রিয়ায় যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলো দূর করার কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক উৎস থেকে খাদ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খাদ্য বিভাগের জনবলসংকট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিভাগের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে জনবলসংকট দূর করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম সাইলো পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরেজমিনে ঘুরে বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকারিতা, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং খাদ্য সংরক্ষণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে এবং সেগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত স্থাপনাগুলোকে আবার কার্যকর করা সম্ভব হলে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে দেশের খাদ্য সংরক্ষণের সক্ষমতাও বাড়বে বলে জানান তিনি।

পরিদর্শনের সময় খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত