×

ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষার্থীদের ফলের সঙ্গে শিক্ষকদের পাঠদানও মূল্যায়ন করতে হবে: ববি হাজ্জাজ

২০২৬ অক্টোবর ১০ ১৬:৪৪:৫৬

শিক্ষার্থীদের ফলের সঙ্গে শিক্ষকদের পাঠদানও মূল্যায়ন করতে হবে: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত শিখনফল অর্জন করতে পারছে কি না, তা যাচাইয়ের পাশাপাশি শিক্ষকদের পাঠদানের কার্যকারিতাও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত শিখনফল অর্জনে ব্যর্থ হলে তার কারণ খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা জরুরি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গণসাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে শিক্ষক ও অভিভাবক দুই পক্ষেরই দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে শেখানোর দায়িত্ব তাঁদের উভয়ের। তবে শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা ঠিকভাবে পড়াতে পারছেন কি না এবং শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখতে পারছে, তা নিয়মিত মূল্যায়ন করা দরকার।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই শিক্ষকরা এ পেশায় যোগ দেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে অনেক সময় তাঁরা দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেন না। তাই শিক্ষকদের পেশাগত কাজের নানা দিক মূল্যায়নের আওতায় আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা গেলে প্রত্যাশিত শিখনফল অর্জনের সম্ভাবনাও বাড়বে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্মার্টফোনসহ ডিজিটাল যন্ত্রের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, এসব যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এখন বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণ প্রজন্মের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের মানুষের মধ্যেও এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার যাতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, শেখার আগ্রহ ও স্বাভাবিক বিকাশে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সবার সচেতন থাকা প্রয়োজন।

শিক্ষাক্রমের পরিবর্তন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে জ্ঞান, দক্ষতা ও শিক্ষার চাহিদায় পরিবর্তন আসে। এ কারণে শিক্ষাক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ করা উচিত। তবে এ প্রক্রিয়ায় গবেষণা, পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সময় না দিয়ে আকস্মিকভাবে শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। ভবিষ্যতে শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রস্তুত করার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ববি হাজ্জাজ বলেন, সাফল্য অর্জনের জন্য অনেক পথ রয়েছে। তবে সাফল্য পেতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধূরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. মাহদী আমিন।

সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গণসাক্ষরতা অভিযানের কাউন্সিলের চেয়ারপারসন ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. ইরাম মরিয়ম, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা. আরিফুর রহমান এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত