ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশে মানব পাচারকারীদের দণ্ড কমেছে, উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে মানব পাচারকারীদের দণ্ডিত করার সংখ্যা কমেছে। পাশাপাশি, দেশের অভ্যন্তরে মানব পাচার প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ায় এ ধরনের অপরাধের ঘটনা ব্যাপকভাবে রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত দেশটির সর্বশেষ ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্ট ২০২৬’-এ বাংলাদেশের মানব পাচার পরিস্থিতি নিয়ে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানব পাচার নির্মূলে নির্ধারিত ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ সরকার। তবে এ অপরাধ মোকাবিলায় সরকার উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আগের প্রতিবেদনকালের তুলনায় সামগ্রিক উদ্যোগ বাড়ায় বাংলাদেশকে দ্বিতীয় স্তরে (টিয়ার-২) রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানব পাচারবিরোধী উদ্যোগগুলোর মধ্যে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ ২০২৬ প্রণয়নের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মানব পাচার মোকাবিলায় আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত তদন্ত ও মামলা পরিচালনার সংখ্যা বাড়ানো এবং মানব পাচারের অপরাধ শনাক্তকরণ ও ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত করার নির্দেশিকা হালনাগাদ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা সেবা দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত ও সমন্বিত করতে জাতীয় রেফারেল ব্যবস্থার (এনআরএম) ডিজিটাল সংস্করণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মানব পাচারের ঝুঁকি কমাতে অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায়ও সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণে বাংলাদেশের ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের তুলনায় এবার কমসংখ্যক ভুক্তভোগী শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ সরকার। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং সমাজে পুনর্বাসনের উদ্যোগ পর্যাপ্ত নয়।
একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়োগ-সংক্রান্ত ফি নেওয়ার প্রচলিত ব্যবস্থাও অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ফি পরিশোধ করতে গিয়ে অনেক শ্রমিক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন, যা তাদের মানব পাচারের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র থমাস টমি পিগট বলেছেন, মানব পাচার স্বাধীনতা ও মর্যাদার সেই মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত, যা যুক্তরাষ্ট্রের পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের মানব পাচারবিষয়ক প্রতিবেদনে অপরাধী সংগঠন ও দমনমূলক শাসনব্যবস্থাগুলো কীভাবে আর্থিক লাভের জন্য এই ঘৃণ্য অপরাধের নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছে, তা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে মানব পাচারকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ সরকারগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পিগট আরও বলেন, মানব পাচারকারী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং বিচারের আওতায় আনতে ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের উপলভ্য উপায় ব্যবহার করবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ অক্টোবর)
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ পদে নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ৬ অক্টোবর
- ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল
- ব্রাজিল বনাম ভারত: সরাসরি দেখুন এখানে
- ‘রইদ’-এর ঝুলিতে তিন পুরস্কার, সেরা অভিনেত্রী নাজিফা তুষি
- যে কারণে স্থগিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ম্যাচ
- শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
- চাঁদাবাজি-দখলদারি দেখার জন্য কি মানুষ জীবন দিয়েছিল: জুবায়ের
- এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে সুখবর দিলেন সেলিম ভূঁইয়া
- ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২ অক্টোবর)
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল