×

ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

ব্রোকারেজ হাউজের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীর অর্থ লোপাটের অভিযোগ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১১ ২২:৪২:৩২

ব্রোকারেজ হাউজের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীর অর্থ লোপাটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউজের মিরপুর-১০ শাখার বিরুদ্ধে এক বিনিয়োগকারীর স্বাক্ষর ও অনুমতি ছাড়াই কোটি কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা এবং বিও অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারী আবুল কালাম আজাদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের শেয়ারবাজার-১ শাখা থেকে সম্প্রতি বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, আবুল কালাম আজাদ নামের ওই বিনিয়োগকারীর মিরপুর-১০ নম্বর এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউজের বিও অ্যাকাউন্টে জমা করা ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা ফেরত পাওয়ার আবেদনটি আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তির জন্য বিএসইসিতে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, বিনিয়োগকারী আবুল কালাম আজাদ গত আগস্ট মাসে বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন। সেখানে তিনি তার ০৩৯২৬ কোডের বিও হিসাব পরিচালনায় ভয়াবহ অনিয়ম ও জালিয়াতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি ব্রোকারেজ হাউজটিতে তার জমা করা মূল অর্থ ফেরত এবং অবৈধভাবে কেটে নেওয়া সুদের অর্থ মওকুফের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউজের মিরপুর-১০ শাখার কর্মকর্তারা তার অজান্তেই বিও হিসাবে জমা থাকা ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যবহার করে বিভিন্ন ‘জেড’ ক্যাটাগরি বা নিম্নমানের কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা করেছেন। তিনি নির্দিষ্ট করে নাহিদ, আসিফ, মাকসুদ ও সানি নামের চারজন ট্রেডারের নাম উল্লেখ করে বলেছেন, তারা কোনো অনুমতি বা নির্দেশনা ছাড়াই এসব লেনদেন সম্পন্ন করেছেন। এমনকি তার মার্জিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আইনবহির্ভূতভাবে নন-মার্জিন শেয়ারও কেনা হয়েছে।

জোরপূর্বক কেনা এসব শেয়ারের তালিকায় এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন এবং ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের মতো কোম্পানির নাম উঠে এসেছে। আবুল কালাম আজাদের দাবি, এই শেয়ারগুলো কেনার ক্ষেত্রে ব্রোকারেজ হাউজ কর্তৃপক্ষ তার কোনো সায় নেয়নি। এই অননুমোদিত এবং অযৌক্তিক লেনদেনের ফলে তিনি বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

বিনিয়োগকারীর অজান্তে এভাবে ক্রয়াদেশ ছাড়াই নিম্নমানের শেয়ার কেনাবেচার ফলে তার পোর্টফোলিওতে বড় ধরনের লোকসান দেখা দিয়েছে। অনুমতি ছাড়া এভাবে শেয়ার কেনাবেচা করায় তার বিনিয়োগের মূল অর্থের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি আবেদনে এফআইডি ও বিএসইসিকে জানিয়েছেন।

এদিকে আবুল কালাম আজাদ ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর ব্রোকারেজ হাউজটির কর্তৃপক্ষের কাছে সুদ মওকুফের জন্য একটি আবেদন করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই আবেদনটির কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। আবেদনটি এখনো ব্রোকারেজ হাউজটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কার্যালয়ে চাপা পড়ে আছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিনিয়োগকারী আবুল কালাম আজাদ এফআইডিকে জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ১৩ ও ১৬ নভেম্বরের পোর্টফোলিও তুলনা করলে তার হিসাব থেকে ফান্ড বা অর্থ সরিয়ে নেওয়ার নজিরবিহীন অনিয়ম ধরা পড়বে। এই ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনায় তিনি ব্রোকারেজ হাউজটির সিইও আরেফিন, নাজমা খাতুন এবং আদনানকে সরাসরি দায়ী করেছেন।

শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগকারীর অনুমতি ছাড়া তার বিও হিসাব ব্যবহার করে শেয়ার কেনাবেচা করা বাজার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। একইভাবে মার্জিন হিসাবে নন-মার্জিন শেয়ার কেনা এবং বিনিয়োগকারীর অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তা পুরো ব্রোকারেজ হাউজের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, গ্রাহকের সম্পদ সুরক্ষা এবং বাজার স্বচ্ছতার ওপর বড় ধরনের প্রশ্ন তুলবে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির উচিত এই অভিযোগের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ওই বিনিয়োগকারীর অর্থ ও স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক বলে তারা মনে করছেন।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত