ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
জাহাজডুবির পর নিখোঁজ সাতক্ষীরার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের ওড়িশা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ এমভি ওশান উইনার ডুবে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন সাতক্ষীরার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন (মানিক)। জাহাজডুবির পর পরিবারের সঙ্গে তাঁর আর যোগাযোগ হয়নি। ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর উদ্ধার অভিযানের দিকে তাকিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বজনদের।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২২ আগস্ট জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সেটি ডুবে যায়। জাহাজটিতে ২৪ জন ক্রু ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২০ জন চীনের, তিনজন মিয়ানমারের এবং একমাত্র বাংলাদেশি ছিলেন মামুন। এ পর্যন্ত দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ২২ জনের সন্ধানে অভিযান চলছে।
মামুনের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শহরের গণমুখী মাঠসংলগ্ন এলাকায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বুধবার মামুনের সঙ্গে পরিবারের সর্বশেষ অনলাইনে কথা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁর স্ত্রীও কথা বলেন। এরপর শুক্রবার লৌহ আকরিক নিয়ে জাহাজটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। পরে জাহাজডুবির খবর পায় পরিবার।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে মামুনের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল বাকি বলেন, ‘গত বুধবার ভাইয়ের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছে। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ নেই। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ করছি; কিন্তু এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হোক এবং দ্রুত আমাদের ভাইয়ের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানানো হোক।’
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিলের শেষদিকে মামুন এমভি ওশান উইনারে যোগ দেন। প্রায় চার মাস সমুদ্রে দায়িত্ব পালনের পর তিনি জাহাজটিতে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। ছেলে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে তাঁর মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
মামুনের বাল্যবন্ধু সাদাত আল কাবিজু জানান, দুর্ঘটনার পর তিনি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে এখন পর্যন্ত মামুনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এমভি ওশান উইনার ওড়িশার পারাদ্বীপ বন্দর থেকে প্রায় ৭২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন লৌহ আকরিক নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। ২২ আগস্ট বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার তথ্য পায়। পরে ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করে। একটি লাইফ র্যাফট থেকে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
জাহাজটি কী কারণে ডুবে গেছে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি। নিখোঁজদের সন্ধানে আকাশ ও সমুদ্রপথে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামুনের ভাই আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আমার ভাইকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই। সরকারের কাছে দ্রুত সঠিক তথ্য ও কার্যকর উদ্ধার তৎপরতার দাবি জানাচ্ছি।’
এদিকে তিন দিন ধরে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সাতক্ষীরার ওই পরিবারে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তাঁরা এখন অপেক্ষা করছেন একটি সুখবরের-মামুন জীবিত আছেন, এমন একটি নিশ্চিত খবরের।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- সরকারি বাঙলা কলেজে উপবৃত্তি আবেদনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদলের নিরব
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের রুটিন প্রকাশ, দেখুন এখানে
- ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানা গেল
- প্রধান শিক্ষক নিয়োগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত
- জাবির জঙ্গলে গভীর রাতে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগত আটক
- ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে ‘বিয়ে হয়ে গেল’ আছিয়ার
- বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাবির ২২ শিক্ষক-গবেষক
- বিআরটিসির নতুন চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর
- দৈনন্দিন একাডেমিক কার্যক্রম সহজকরণে 'ক্লাসট্যাবলেট'
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ অক্টোবর)
- বুয়েটে ২৪ পদে নিয়োগ, আবেদন ১১ নভেম্বর পর্যন্ত