ঢাকা, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
নুসরাত হত্যা মামলা: দুজনের মৃ’ত্যুদণ্ড বহাল, খালাস ১০
নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদদৌলা এবং মাদ্রাসাছাত্র শাহাদাত হোসেন শামীম।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চার আসামি হলেন মাদ্রাসাছাত্র নুর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন এবং জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ।
মামলার রায়ে ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।
আসামিদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।
২০ আগস্ট শেষ হয় শুনানি
নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শেষ হয় গত ২০ আগস্ট। এরপর আদালত রায়ের জন্য সোমবার দিন নির্ধারণ করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও অন্যান্য বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি গত ১০ জুন বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। বেঞ্চটি ১৪ জুন কার্যক্রম শুরু করে। নুসরাত হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয় ২৮ জুলাই। মামলাটিতে মোট ১৭ কার্যদিবস শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
যেভাবে হত্যা করা হয় নুসরাতকে
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মার্চে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন। ওই মামলায় অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে মুক্ত করার দাবিতে তার অনুসারীরা বিক্ষোভও করেন।
এরপর ৩ এপ্রিল কারাগারে সিরাজের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে নুসরাতকে কৌশলে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যায় সে।
নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পরে নুসরাতের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
নিম্ন আদালতে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৬ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হিসেবে মামলাটি হাইকোর্টে আসে।
দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার উচ্চ আদালতের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের যাবজ্জীবন এবং ১০ জনের খালাসের সিদ্ধান্ত জানানো হলো।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ অক্টোবর)
- বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২৬ অক্টোবর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩১ অক্টোবর)
- আনসার-ভিডিপিতে ২২৮ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ অক্টোবর)
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৫ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে আবেদন করবেন যেভাবে, জানুন বিস্তারিত
- ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ
- মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুকদের সুখবর দিল সরকার
- নভেম্বরের শুরুতে টানা তিন দিনের ছুটি পাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
- জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
- ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত এমপির ছেলেকে যুবদল থেকে বহিষ্কার
- সেনাবাহিনীতে সফটওয়্যার প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ, বেতন ৫০ হাজার টাকা