ঢাকা, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
নুসরাত হত্যা মামলা: দুজনের মৃ’ত্যুদণ্ড বহাল, খালাস ১০
নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদদৌলা এবং মাদ্রাসাছাত্র শাহাদাত হোসেন শামীম।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চার আসামি হলেন মাদ্রাসাছাত্র নুর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন এবং জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ।
মামলার রায়ে ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।
আসামিদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।
২০ আগস্ট শেষ হয় শুনানি
নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শেষ হয় গত ২০ আগস্ট। এরপর আদালত রায়ের জন্য সোমবার দিন নির্ধারণ করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও অন্যান্য বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি গত ১০ জুন বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। বেঞ্চটি ১৪ জুন কার্যক্রম শুরু করে। নুসরাত হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয় ২৮ জুলাই। মামলাটিতে মোট ১৭ কার্যদিবস শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
যেভাবে হত্যা করা হয় নুসরাতকে
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মার্চে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন। ওই মামলায় অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে মুক্ত করার দাবিতে তার অনুসারীরা বিক্ষোভও করেন।
এরপর ৩ এপ্রিল কারাগারে সিরাজের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে নুসরাতকে কৌশলে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যায় সে।
নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পরে নুসরাতের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
নিম্ন আদালতে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৬ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হিসেবে মামলাটি হাইকোর্টে আসে।
দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার উচ্চ আদালতের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের যাবজ্জীবন এবং ১০ জনের খালাসের সিদ্ধান্ত জানানো হলো।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত
- পর্নোগ্রাফি মামলায় ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেফতার
- লন্ডনে ঢাবি অ্যালামনাই ইউকের কোচ ট্রিপ অনুষ্ঠিত
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জয়ী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৩ আগস্ট)
- বিইউপিতে ২৯ পদে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ
- খণ্ডকালীন শিক্ষক নেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জানুন আবেদনপদ্ধতি
- নতুন পে-স্কেলে বড় পরিবর্তন, যেভাবে বাস্তবায়ন হবে বেতন-ভাতা
- নবম পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল
- বস্ত্র অধিদপ্তরে ৪২ পদে পুনর্নিয়োগ
- চালুর প্রথম দিনেই দুর্ঘটনায় পিংক বাস
- নোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষকের বেতন বন্ধ
- দিনে তিনবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট দেখার নির্দেশ
- নারীদের চোখে পুরুষের যে ৫ শখ বেশি আকর্ষণীয়
- আজকের বাজারে ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম জানুন